রাজ্য সরকারের ‘দ্বিমুখী’ নীতির বিরুদ্ধে বহরমপুরে সিপিআইএমের বিশাল মিছিল

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর, ১৮ ডিসেম্বর:

কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ সংশোধনী বিল এবং রাজ্যে তার ‘গোপন’ রূপায়ণ—উভয় ইস্যুকে সামনে রেখে আজ উত্তপ্ত হয়ে উঠল বহরমপুর। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির ডাকে বুধবার শহরে এক বিশাল ধিক্কার মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে অভিযোগ তোলা হয়, মুখে বিরোধিতা করলেও রাজ্য সরকার তলে তলে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোকে সরকারি খাস খতিয়ানে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে।

এদিন দুপুরে বহরমপুর শহর পরিক্রমা করে সিপিএমের এই মিছিল। মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মী-সমর্থকদের প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মূলত চারটি দাবি উঠে আসে ওয়াকফ সংশোধনী বিল অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এসআইআর (SIR)-এর নামে বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ধর্মের নামে মেরুকরণের রাজনীতি পরিহার করতে হবে। সংখ্যালঘু, ওবিসি, এসসি ও এসটি সম্প্রদায়ের প্রতি বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।

মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক জামির মোল্লা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে এক গভীর আশঙ্কার কথা। জামির মোল্লা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ সংশোধনী আইন এই রাজ্যে কার্যকর হবে না। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা উল্টো। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সেই আইন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।”

তিনি তথ্য দিয়ে অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৫ তারিখের মধ্যে সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য ‘উমিদ পোর্টালে’ আপলোড করতে হবে। রাজ্যে প্রায় ৮২ হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, অথচ তার মধ্যে মাত্র ১৪ হাজার সম্পত্তির তথ্য আপলোড করা হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, বাকি যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির তথ্য আপলোড হয়নি, সেগুলি পরিকল্পিতভাবে জেলাশাসকের অধীনে নিয়ে যাওয়া হবে। এর ফলে ওই সম্পত্তিগুলি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কার্যত মুসলিম সমাজের হাতছাড়া হয়ে যাবে।”

ওয়াকফ ইস্যুর পাশাপাশি এসআইআর এবং জাতিগত শংসাপত্র নিয়েও সরব হন বাম নেতৃত্ব। জামির মোল্লা অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে রাজ্যে নতুন করে বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। ওবিসি, এসসি এবং এসটি সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও অনৈতিক কাজকর্ম চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা সম্পাদক বলেন, রাজ্য সরকার যদি এই সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ‘মুখে এক আর কাজে আরেক’ নীতি বজায় রাখে, তবে সিপিএম চুপ করে বসে থাকবে না। আজকের এই মিছিল কেবল সতর্কবার্তা। এরপর আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

এদিনের মিছিলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লোকসভা ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘু ইস্যুকে কেন্দ্র করে সিপিএম যে ফের সংগঠন গুছিয়ে রাস্তায় নামছে, আজকের কর্মসূচি তারই ইঙ্গিত বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *