নজরুল মঞ্চে ৩,৫০০ কণ্ঠের সমবেত সুর: তৃণমূলের নতুন হাতিয়ার ‘উন্নয়নের পাঁচালি’

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা:

মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে এক নজিরবিহীন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের ১৫ বছরের সাফল্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচার অভিযানের সূচনা করল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা শাখা। ৩,৫০০-এরও বেশি মহিলা জনপ্রতিনিধি ও নেত্রীর উপস্থিতিতে নজরুল মঞ্চ এদিন হয়ে উঠেছিল নারীশক্তির এক বিশাল মিলনক্ষেত্র।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ‘উন্নয়নের পাঁচালি’-এর উপস্থাপনা। প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত প্রত্যেক মহিলার হাতে এই পাঁচালির একটি করে প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়ন যাত্রার বর্ণনা সংবলিত এই পাঁচালি যখন ৩,৫০০ মহিলা একসঙ্গে ছন্দে ছন্দে পাঠ শুরু করেন, তখন সেই সুরের মূর্ছনায় গোটা নজরুল মঞ্চ মুখরিত হয়ে ওঠে। বাংলার চিরাচরিত লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে রাজনীতির এই মেলবন্ধন উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে।

এই মেগা ইভেন্টে তৃণমূলের হেভিওয়েট মহিলা নেত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডঃ শশী পাঁজা, বীরবাহা হাঁসদা, জ্যোৎস্না মাণ্ডি, সাবিনা ইয়াসমিন এবং সাংসদ মালা রায় সহ অভিজ্ঞ নেত্রীরা।

মন্ত্রী শশী পাঁজা তাঁর বক্তব্যে সরকারের নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলির সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা সব ক্ষেত্রেই আমাদের মেয়েরা আজ সুরক্ষিত। শুধু প্রকল্প নয়, রাজনীতিতেও তৃণমূল কংগ্রেস নারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। যার প্রমাণ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত আমাদের মহিলা প্রার্থীদের বিপুল জয়।”

এক নজরে আগামী এক মাসের কর্মসূচী: ‘বুথ টু ব্লক’

অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আগামী ৩০ দিনের এক নিশ্ছিদ্র কর্মসূচী ঘোষণা করেন তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই পাঁচালি কেবল পুস্তিকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, একে আন্দোলনের রূপ দেওয়া হবে।

আগামী ১৭ – ২০ ডিসেম্বর  জেলা সভাপতিদের নেতৃত্বে জেলা স্তরে নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে। ২১ ডিসেম্বর – ২০ জানুয়ারি তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ। এই ৩০ দিনে প্রতিটি বুথে ন্যূনতম তিনটি করে পাড়া বৈঠক বা সভা করতে হবে। যেখানে মহিলারা মাদুর পেতে বসে এই পাঁচালি পাঠ করবেন। ২২ জানুয়ারি প্রতিটি জেলায় রাজ্য স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশাল সমাবেশ। ২৫ জানুয়ারি জেলা স্তরের সম্মেলন ও কর্মসূচীর পর্যালোচনা।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই কর্মসূচী আসলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল। পাড়ায় পাড়ায় গ্রাম পঞ্চায়েত ও অঞ্চলের মহিলা প্রধানদের এই প্রচারের অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। লোকায়ত ছন্দে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পাঠের মাধ্যমে সরকারের ১৫ বছরের খতিয়ান তুলে ধরে কার্যত নারী-ভোটারদের মনে নিজেদের জায়গা আরও সুসংহত করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূলের দাবি, এই প্রচার অভিযান প্রমাণ করে দেয় যে বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নারী-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ওপর কতটা আস্থাশীল। এখন দেখার, আগামী এক মাসের এই ‘পাঁচালি পাঠ’ কর্মসূচি বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো ঢেউ তুলতে পারে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *