মেঘালয়ে হানিমুন, শিলংয়ে খুন! স্ত্রীর আত্মসমর্পণে চাঞ্চল্য

নিউজ ফ্রন্ট, ৯ জুন:
মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে খুন হলেন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী। এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। রাজা রঘুবংশীর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী আত্মসমর্পণ করেছেন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলার নন্দগঞ্জ থানায়। ইতিমধ্যেই এই মামলায় চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে মেঘালয় পুলিশ।

বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর নেতৃত্বে গঠিত তদন্তে জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থাকতে পারে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সোনমই এই হত্যার মূলচক্রী এবং তিনি একাধিক সহযোগীর সঙ্গে মিলেই স্বামীর খুনের ছক কষেছিলেন বলে অনুমান।

রাজা রঘুবংশী ও সোনম রঘুবংশী

কীভাবে ঘটল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা?

২০ মে রাজা ও সোনম হানিমুনে মেঘালয় যান। ২২ মে তাঁরা সোহারা সফরে বের হন এবং ২৩ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন দুজনেই। ২৭ মে পাহাড়ি এক অঞ্চল থেকে উদ্ধার হয় দুটি ব্যাগ এবং ২ জুন খাদ থেকে রাজা রঘুবংশীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরের দিন, ৩ জুন ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মেলে।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও পুলিশের পদক্ষেপ

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে— দু’জন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে এবং একজন উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর থেকে। এদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে— আকাশ রাজপুত, বিশাল সিং চৌহান এবং রাজ সিং কুশওয়াহা। চতুর্থ অভিযুক্তকে নিয়েও তৎপরতা চলছে। পুলিশের মতে, সোনম রঘুবংশী মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং খুনের পিছনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা এই ঘটনার তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মেঘালয় পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন:

মাত্র ৭ দিনের মধ্যে #MeghalayaPolice রাজা হত্যা মামলায় বড়সড় সাফল্য পেয়েছে। ৩ জন হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অভিযুক্ত মহিলা আত্মসমর্পণ করেছেন, আরেকজন হামলাকারীকে ধরতে অভিযান চলছে।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

অভিযুক্ত স্ত্রীকে ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য গাজিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। মেঘালয় পুলিশের বক্তব্য, এখনো তদন্ত চলছে এবং সোনম রঘুবংশীর জিজ্ঞাসাবাদের পরেই পুরো ঘটনার পটভূমি স্পষ্ট হবে। খুনের মোটিভ কী ছিল, কারা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত— তা জানতে SIT-এর জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশ্লেষণ চলছে।

এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে আলোড়ন ফেলেছে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের নজর এখন এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *