আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র: রাজনৈতিক ‘পরামর্শ’ উড়িয়ে কড়া কমিশন

নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি ও কলকাতা | ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

সামনে বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোট প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে নারাজ ভারতের নির্বাচন কমিশন (EC)। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের ভোটারদের সুবিধার্থে আবাসন বা প্রাইভেট হাউজিং কমপ্লেক্সে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি নিয়ে এবার জেলাশাসকদের কড়া বার্তা দিল কমিশন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, কোথায় বুথ হবে আর কোথায় হবে না—এই বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের আপত্তি বা পরামর্শ কানে নেওয়া যাবে না বা বরদাস্ত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, জেলাশাসক (DM) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) তাঁদের ‘বৈধ দায়িত্ব’ (Statutory Responsibility) পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের কোনও জেলা থেকেই প্রাইভেট মাল্টি-টাওয়ার বা বড় আবাসনগুলির তালিকা কমিশনের কাছে এসে পৌঁছায়নি।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ? কমিশন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আবাসনের ভেতরে বুথ তৈরির বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, এতে আবাসিকদের গোপনীয়তা নষ্ট হবে বা সমস্যা তৈরি হবে। আবার অন্য অংশের মতে, আবাসনের নিজস্ব চত্বরে বুথ থাকলে বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে স্কুলে বা অন্য কেন্দ্রে যেতে হবে না, যা অনেক সুবিধাজনক। এই বিতর্কের মাঝেই কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, বুথ তৈরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির এই ‘পছন্দ-অপছন্দ’ বা অযাচিত হস্তক্ষেপকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা (Ignore) করতে হবে। প্রশাসনিক স্তরে যা সঠিক মনে হবে, সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জেলাজুড়ে সার্ভে বা সমীক্ষা শুরু করতে হবে। এই সমীক্ষায় যে বিষয়গুলির ওপর নজর দিতে বলা হয়েছে: উঁচু বহুতল বা হাই-রাইজ বিল্ডিং, গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি ও আরডাব্লিউএ (RWA) কলোনি, বড় বস্তি এলাকা (Slum Areas) এবং গেটেড কমিউনিটি। ওই আবাসন বা এলাকাগুলিতে অন্তত ২৫০টি পরিবার বা ৫০০ জন ভোটার থাকতে হবে।

জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবাসনগুলির গ্রাউন্ড ফ্লোর বা একতলায় বুথ করার মতো উপযুক্ত ঘর আছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা ভোটের আগে কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, শহুরে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কমিশন এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *