মুর্শিদাবাদে সাড়ে ৬০০ নতুন রাস্তা: ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’তে বরাদ্দ ৫৫৩ কোটি টাকা

জেলায় শুরু ‘বাংলার শপথ’ প্রচার

নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তার শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে ভার্চুয়ালি এই ‘পথশ্রী’, ‘রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পের চতুর্থ ধাপের সূচনা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় মুর্শিদাবাদ জেলায় তৈরি হতে চলেছে মোট ৬৫০টি নতুন রাস্তা, যার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৫৩ কোটি টাকা। এই বিপুল বরাদ্দে জেলায় মোট ১০৪৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মিত হবে বলে জানা গেছে।

এদিন বহরমপুরে জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, সংখ্যালঘু দফতরের সচিব পিবি সেলিম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখতারুজ্জামান, বিধায়ক অপূর্ব সরকার সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা।

রাস্তার শিলান্যাসের পাশাপাশি এদিন জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে বাংলার শপথ নামক একটি বিশেষ ট্যাবলোরও উদ্বোধন করা হয়। এই ট্যাবলোটি জেলাজুড়ে ঘুরে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার চালাবে।

জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এটি ‘পথশ্রী ৪.০’ প্রকল্প। এর আগে তিনটি ধাপে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। জেলাশাসক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে জেলার সাড়ে ৬৫০টি রাস্তার অনুমোদন দিয়েছেন। এই রাস্তার জন্য ৫৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট ১০৪৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে।” তিনি আরও জানান, আজ থেকেই এই প্রকল্পের প্রচার ও শিলান্যাস শুরু হয়েছে। সব ব্লক থেকেই আজ পথশ্রীর রাস্তার শিলান্যাস হয়েছে। সদরের অনুষ্ঠান হিসেবে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকে একটি রাস্তার শিলান্যাস করা হবে।

কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার এই প্রকল্প প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ জেলায় ৬৫০টি রাস্তা তৈরি হচ্ছে।” তিনি জানান, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে গ্রামীণ বাংলা আর গ্রামীণ বলে কিছু থাকছে না। থাকছে রাস্তা ও উন্নত পরিষেবা। একটি শহরের সঙ্গে গ্রাম জুড়তে গেলে রাস্তার প্রয়োজন আছে। আজকে চতুর্থ ধাপে বাংলাব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তার মুখ্যমন্ত্রী নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে শিলান্যাস করলেন।”

উল্লেখ্য, পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পগুলোতে স্থানীয় মানুষ রাস্তার যেসকল প্রকল্পের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অনেক রাস্তাই এবার এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *