নিজস্ব সংবাদদাতা, রেজিনগর | ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পাঁচ দিনের মাথাতেই মুর্শিদাবাদে শিল্পায়নের চাকা ঘোরাতে কোমর বেঁধে নামল জেলা প্রশাসন। গত ৪ ডিসেম্বর প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলায় অব্যবহৃত জমিতে শিল্প গড়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে ‘পাথেয়’ করেই মঙ্গলবার দুপুরে রেজিনগর শিল্পতালুক পরিদর্শনে এলেন খোদ জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া। সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনিক কর্তা এবং একঝাঁক শিল্পপতি। এদিন লগ্নিকারীদের আকৃষ্ট করতে জমির দামে বড়সড় ছাড়ের (Concession) কথাও ঘোষণা করল প্রশাসন।
মঙ্গলবার বেলা ২টো নাগাদ জেলাশাসক রেজিনগর শিল্পতালুকে পৌঁছান। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন প্রায় ১৮৩ একর জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল শিল্পতালুকের বর্তমান পরিকাঠামো তিনি নিজেই ঘুরে দেখেন। জেলাশাসকের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পি প্রমোদ, বেলডাঙা-২ ব্লকের বিডিও তুহিন কান্তি ঘোষ, রেজিনগর থানার ওসি উৎপল দাস সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

তবে এদিনের পরিদর্শনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল শিল্পপতিদের উপস্থিতি। প্রশাসনের উদ্যোগেই বেশ কয়েকজন আগ্রহী শিল্পপতিকে এদিন স্পটে নিয়ে আসা হয়, যাতে তাঁরা সরেজমিনে জমির অবস্থান এবং সুবিধাগুলি খতিয়ে দেখতে পারেন।
শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় অনেক সময়ই জমির চড়া দাম হয়ে দাঁড়ায়। সেই সমস্যা সমাধানে এদিন জেলাশাসক ও বণিকসভার তরফে জমির দরে বিশেষ ছাড়ের কথা জানানো হয়। মুর্শিদাবাদ জেলা বণিকসভার সাধারণ সম্পাদক জানান, আগে এখানে জমির দাম ছিল কাঠা প্রতি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। কিন্তু বিনিয়োগ টানতে এখন তা প্রায় অর্ধেক করা হয়েছে।
যাঁরা ৩০ কাঠার বেশি জমি নেবেন, তাঁদের জন্য ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে কাঠা প্রতি দাম ধার্য করা হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। যাঁরা ৩০ কাঠার কম জমি নেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও দাম কমিয়ে কাঠা প্রতি ১ লক্ষ ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।

জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, “কীভাবে এই শিল্পতালুককে আরও উন্নতমানের করা যায়, তা নিয়েই আজকের পরিদর্শন। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পরিকাঠামোর ‘এস্টিমেট’ তৈরি করা হয়েছে। শীঘ্রই বিভাগীয় স্ত থেকেও পরিদর্শন হবে। আমরা আশা রাখছি, এই উদ্যোগের ফলে জেলায় আরও বেশি শিল্প আসবে এবং অর্থনৈতিক সশক্তিকরণ ঘটবে।”
বণিকসভার সাধারণ সম্পাদক আরও যোগ করেন, “বামফ্রন্ট আমলে তৈরি এই শিল্পতালুকটি জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত এবং এখানে জল ও বিদ্যুতের সুব্যবস্থা রয়েছে। আগে এখানে শিল্প করতে গেলে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হতো, কিন্তু বর্তমানে সেই সমস্যা নেই। আমরা চাই উদ্যোগপতিরা এখানে আসুক। বড় কোনও উদ্যোগপতি বিনিয়োগে আগ্রহী বলে ইঙ্গিতও মিলেছে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, রেজিনগর শিল্পতালুককে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারলে জেলার কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে। গত ৪ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে জেলার অব্যবহৃত জমিগুলিকে ফেলে না রেখে শিল্পের কাজে লাগাতে হবে। সেই নির্দেশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জেলাশাসকের এই ‘ফিল্ড ভিজিট’ এবং জমির দামে ছাড়ের ঘোষণা জেলাবাসীর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করল।