বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ:
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা সত্ত্বেও, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আজ স্পষ্ট করে দিলেন যে তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না। একইসঙ্গে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে তিনি করলেন বিস্ফোরক মন্তব্য, যা তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিধায়ক পদ না ছাড়ার কারণ হিসেবে হুমায়ুন কবীর সরাসরি তাঁর ভোটারদের প্রয়োজনকে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যদিও তাঁর পদত্যাগের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি ছিল, তবুও মানুষের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
তিনি বলেন, “আমার প্রতিশ্রুতি থাকলেও—যে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাঁদের অনুরোধে আমি পদত্যাগ করব না। এখানকার বিধায়ককে মানুষ সহজে পান না। স্কলারশিপ হোক বা বিধায়কের সার্টিফিকেট—তাঁদের ঘুরতে হয়। কিন্তু আমার কাছে এলে তারা সহজেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পান। তাই তাঁদের স্বার্থেই আমি দায়িত্বে থাকছি।”
এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, দল পরিবর্তন করলেও সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ব তিনি পালন করে যাবেন।
কোরান পাঠের বিশাল অনুষ্ঠানের ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি সমস্ত ধর্মীয় অধিকারকে সম্মান করেন। গীতাপাঠের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা অবশ্যই তাঁদের ধর্ম পালন করার অধিকার রাখেন। একইভাবে আমি এখানে এক লক্ষ হাফেজ নিয়ে কোরআন পাঠ করব।”
বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং উদয়ন গুহ-সহ দলের একাধিক নেতার মধ্যে চলা তীব্র কোন্দল প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এই কোন্দলই তৃণমূলের পতনের কারণ হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: “তৃণমূল এইভাবেই শেষ হবে। তৃণমূলের ভিতরে বুথ থেকে রাজ্য—সব স্তরেই লড়াই সৃষ্টি করে রেখেছেন তাঁদেরই সর্বোচ্চ নেতারা। পাপের ফল তাঁদের ভোগ করতেই হবে।” ব্যক্তিগত ক্ষোভ উগরে তিনি সরাসরি মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও আক্রমণের নিশানা করেন “আমার সঙ্গে যে গাদ্দারী করেছেন ববি হাকিম—সেটার হিসেব তিনিও পাবেন, তৃণমূলও পাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্য একদিকে যেমন শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে তাঁর নতুন দলের পক্ষে বৃহত্তর জনসমর্থন আদায়ের একটি কৌশল হিসেবে কাজ করবে।