মুর্শিদাবাদ/নয়াদিল্লি, ৭ ডিসেম্বর:
বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই নিজেকে বাংলার সংখ্যালঘু রাজনীতির ‘একচ্ছত্র নেতা’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ডিডি নিউজ-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে সরাসরি হায়দ্রাবাদের ফায়ারব্যান্ড নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে তুলনা করে বললেন, “আমি বাংলার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।”
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়কের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হুমায়ুন কবীর এখন পুরোদস্তুর সংখ্যালঘু মেরুকরণের রাজনীতিতে নামতে চাইছেন। গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা সংলগ্ন এলাকায় ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর। এই ঘটনার পরেই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড/বহিষ্কার করে। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন:
“আমি বাংলার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হয়ে গেছি। ওয়াইসি যেমন হায়দ্রাবাদে আছেন, তাঁদের কথা বলেন, আমিও ঠিক সেভাবেই বাংলায় আছি।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন যে, আগামী দিনে তিনি বাংলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে তৃণমূলের বিকল্প এবং শক্তিশালী সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।
হুমায়ুনের এই ‘ওয়াইসি’ হয়ে ওঠার দাবির মাঝেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, হুমায়ুন কবীর একজন “বিশ্বাসঘাতক”। দলের একাংশের মতে, তিনি বাবরি মসজিদের আবেগকে ব্যবহার করে এবং নিজেকে ‘ওয়াইসি’ সাজিয়ে আদতে বিজেপিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে তিনি বিজেপির সুবিধা করে দিতে চান। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে হুমায়ুন কবীরের এই বিদ্রোহ আসলে তৃণমূলেরই সাজানো নাটক। তাদের মতে, হুমায়ুন আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্ট। নির্বাচনে যদি তিনি সংখ্যালঘু ভোট একজোট করে ভালো ফলাফল করেন, তবে নির্বাচনের পরে তাঁকে আবারও দলে ফিরিয়ে নেবে তৃণমূল।
মুর্শিদাবাদে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?
আগামী ২২ ডিসেম্বর নিজের নতুন দল ঘোষণা করার কথা আগেই জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তার আগেই নিজেকে ‘বাংলার ওয়াইসি’ হিসেবে দাবি করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যে ফাটল ধরাতেই কি হুমায়ুন কবীর ওয়াইসি-র মডেল অনুসরণ করছেন?
শনিবারের সফল সমাবেশের পর হুমায়ুন কবীরের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ‘ওয়াইসি’ মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।