বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ:
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত ‘বাবরি মসজিদ’ শিলান্যাস কর্মসূচিটি অবশেষে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার দিকে এগোচ্ছে। পূর্বে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে চরম সংঘাতের আবহ থাকলেও, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে। পুলিশ এখন সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক নিজেই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন বেলডাঙায় মঞ্চ বাঁধার কাজ চলছে, তখনই পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা মাঠে এসে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর সুর নরম: ‘শেষ ভালো যার সব ভালো‘
পুলিশের বিরুদ্ধে ‘আরএসএস-এর দালাল’ এবং এসডিপিও-কে হুমকি দেওয়ার মতো কড়া মন্তব্য করার পর হুমায়ুন কবীরের এই সুর বদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, বহরমপুরের এসপি এবং তাঁর অধীনে থাকা ওসি, আইসি-রা সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করছেন। হুমায়ুন কবীর বলেন: “অনরেবল হাইকোর্ট যখন বলে দিয়েছে, পুলিশের তো একটা রেসপনসিবিলিটি রয়েছে আইন শৃঙ্খলা দেখার… সেই জায়গাটাতে আজকে যেটা বাংলায় একটা কথা আছে—শেষ ভালো যার সব ভালো। কালকের প্রোগ্রামটা যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য উনারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।”
তিনি জানান, তাঁর ট্রাস্টির পক্ষ থেকে মহকুমা শাসক এবং স্থানীয় থানায় মাইক পারমিশন এবং অনুষ্ঠানের বিষয়ে লিখিতভাবে মেল করা হয়েছিল, যা পুলিশ গ্রহণ করেছে।
পুলিশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে শিলান্যাস কর্মসূচির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বহরমপুর থেকে রেজিনগর পর্যন্ত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে (পূর্বতন NH-34) যানজট এড়াতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। হুমায়ুন কবীরকে ১২টা থেকে ২টোর মধ্যে পুরো কর্মসূচি শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সচল রাখতে বহরমপুর থেকে রেজিনগর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পিকেট মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তার জন্য কুইক রেসপন্স টিম (QRT), র্যাফ (RAF), এবং মোতায়েন করা হয়েছে আরপিএফ (RPF) ও বিএসএফ (BSF)।

শিলান্যাস ঘিরে ইতিমধ্যেই মাঠে জনসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। ঠিক কত লোকের জনসমাগাম হবে আসা করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দেখুন, এটা আন্দাজ করা যাবে না। কালকে আপনারা ভেনুতে থাকবেন… আমার ধারণা মানুষের ঢেউ হয়ে যাবে।“
তিনি আরও জানান, বীরভূম, বর্ধমান-সহ বহু জেলা থেকে প্রায় ১০০টি বাস আসার খবর রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের চাওয়া অনুযায়ী, অতিথিদের তালিকা ও স্বেচ্ছাসেবকদের বর্ধিত তালিকাও আগামীকাল সকালের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পুলিশি সহযোগিতার এই বার্তা পাওয়ায় ৬ই ডিসেম্বরের বাবরি মসজিদ শিলান্যাস কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।