‘মমতার ইশারাতেই কি বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ?’, হুমায়ুন প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন শুভেন্দু

নিউজ ফ্রন্ট | ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের আস্ফালনের মধ্যেই এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি প্রশ্ন তুললেন, হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করাটা কি শুধুই ‘আইওয়াশ’? নাকি এর পিছনে খোদ দলনেত্রীর মৌন সমর্থন রয়েছে? একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতাকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি।

মমতার কথাতেই কি উসকানিমূলক মন্তব্য?

এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কেন হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছে, সেটা তাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু হুমায়ুন কবীর অতীতে নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, লোকসভা নির্বাচনের সময় ‘৭০ শতাংশ বনাম ৩০ শতাংশ’ বা ‘ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া’র মতো উসকানিমূলক কথাগুলো তিনি মমতার নির্দেশেই বলেছিলেন।” বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ইউসুফ পাঠানকে জেতানো এবং অধীর চৌধুরী বা বিজেপিকে হারানোর জন্য হুমায়ুনকে দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে ‘উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি’ করানো হয়েছিল। তাই এখন বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরির নেপথ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর গোপন অনুমোদন আছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

হিন্দুরা আক্রান্ত, অথচ মুখ্যমন্ত্রী নীরব

মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের ওপর হওয়া কথিত নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যেভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ একটি শব্দও খরচ করেননি। হরগোবিন্দ দাস বা চন্দন দাস কেন খুন হলেন? কেন ধুলিয়ান ও শামসেরগঞ্জের ১৬ শতাংশ হিন্দুকে প্রাণভয়ে রাতের অন্ধকারে দেশি নৌকায় করে ফরাক্কা পেরিয়ে বৈষ্ণবনগরের আশ্রয় শিবিরে খিচুড়ি খেয়ে দিন কাটাতে হলো? এসব নিয়ে উনি নীরব।”

বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে সিএএ-এনআরসি বিরোধিতার সময় থেকেই মুর্শিদাবাদে বারবার মৌলবাদী শক্তির দ্বারা শান্তিপ্রিয় মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, “এর আগে জিয়াগঞ্জ-লালবাগের সভায় মুখ্যমন্ত্রী ইমামদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি’। ঠিক তার পরেই ধুলিয়ান ও শামসেরগঞ্জে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত কর্মসূচির ঠিক আগেই শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে পুরনো ক্ষত উসকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করলেন, তাতে জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *