‘বাবরি মসজিদ’ ইস্যুতে সাসপেন্ড হয়েও অনড় হুমায়ুন! ‘দেখি কে আটকায়’, বেলডাঙায় দাঁড়িয়ে শাসকদলকে খোলা চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙা | ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দল থেকে সাসপেন্ড বা প্রশাসনিক চাপ কোনও কিছুই টলাতে পারল না রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। আগামীকাল, ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচি ঘিরে যখন গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রশাসন অনুমতি না দিলেও শিলান্যাস হবেই। তাঁর হুঙ্কার, “দেখি, কাল কে আমার শিলান্যাস আটকায়।”

বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করার পরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ বেলডাঙায় শিলান্যাস চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বিধায়ক বলেন, “আমি তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড। তৃণমূলের সঙ্গে আমার আর কোনও সম্পর্ক নেই। তারা আমাকে অপমান ও অসম্মান করেছে। আমি বাবরি মসজিদ করব বলেছি বলেই আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর হিসেব তৃণমূলকে দিতে হবে। ২০২৬-এর ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাবে।”

সাসপেন্ড হওয়ার পরেও কর্মসূচি থেকে একচুল সরেননি হুমায়ুন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামীকাল দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা কোরান পাঠ করা হবে। এরপরই হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, “আমি সারাদিন শিলান্যাস চত্বরে থাকব। দুপুরে নামাজ পড়ে আবার ফিরে আসব। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত—ভাঙড়, উলুবেড়িয়া, সুন্দরবন, কোচবিহার, বীরভূম, বর্ধমান থেকে হাজার হাজার মানুষ কাল বেলডাঙায় আসবেন।”

শিলান্যাস সংক্রান্ত মামলার শুনানি আজ হাইকোর্টে হওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে হুমায়ুন বলেন, “দেখা যাক, হাইকোর্ট কী রায় দেয়। তবে আমি কোনও অসংবিধানিক কাজ করছি না। সংবিধান মানুষের ধর্মীয় অধিকার দিয়েছে—সেই অধিকার বলেই আমি মসজিদ নির্মাণের কথা বলেছি। আমার পক্ষে ১০–১২ জন সিনিয়র আইনজীবী থাকবেন।”

৩৩ বছর আগে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি বলেন, “সেদিন শক্তি দেখিয়ে মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাক ছিলেন। আজ মুসলিমদের আবেগ জড়িয়ে আছে এই মসজিদের সঙ্গে।”

একইসঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা ও অনুমতি প্রসঙ্গে প্রশাসনের দিকে বল ঠেলে দিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “প্রশাসন যদি অনুমতি না-ও দেয়, আমার প্রোগ্রাম হবেই। হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুলিশ যে নিরাপত্তা দেয়, এখানে না দিলে তার দায় তৃণমূল সরকারকেই নিতে হবে।”

আগামীকাল বাবরি ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতে বেলডাঙার এই কর্মসূচি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাসপেন্ডেড বিধায়কের এই ‘শক্তি প্রদর্শন’ কতটা সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *