বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্শিদাবাদ সফরকালে কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন। রাজনৈতিক খুনকে ধামাচাপা দিতে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অধীর। একইসঙ্গে, ওয়াকফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন ইস্যুতেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয় কংগ্রেস।
অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, কুমড়াদহ ঘাটের কাছে কয়েকদিন আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে এক তৃণমূল নেতার শ্যালক খুন হন। প্রথম থেকেই কংগ্রেস দাবি করে আসছে, এই খুনের দায় তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে।
অধীরের অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা খুনের তদন্তের পথে না হেঁটে উলটে কংগ্রেস প্রভাবিত পরিবারগুলির ওপর অত্যাচার শুরু করেছে। তিনি নির্দিষ্টভাবে দুটি হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন ৮৫ নম্বর বুথ কমিটির সভাপতি খালেক শেখের বাড়িতে তৃণমূল কর্মীরা মিছিল করে গিয়ে মহিলাদের গালিগালাজ করে এবং পরিবারের মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তানের ওপরও হামলার চেষ্টা করে। রাজধরপাড়া অঞ্চলে পেশায় ডাক্তার নূর ইসমাইলের বাড়িতেও হামলা হয়।
অধীর চৌধুরীর তীব্র অভিযোগ “তৃণমূল নেতা খুন হয়েছে, পুলিশের উপর চাপ প্রয়োগ না করে নিজেরাই ঠিক করে নিচ্ছে কার বাড়িতে আক্রমণ করবে। কংগ্রেস প্রভাবিত পরিবারগুলির ওপর অত্যাচার শুরু করেছে।”
তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন “যদি মনে করে নিজেদের ভেতরের খুন কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপিয়ে আমাদের কর্মীদের মারধর করবে, তাহলে আমরা বসে থাকব না। মানুষও চুপ থাকবে না।”
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন অধীর। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উৎসর্গীকৃত সম্পত্তি জোর করে নিজেদের দখলে নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এক নম্বর খতিয়ানে যেসব জমি সরকারি ভেস্টেড হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে মসজিদ, কবরস্থান, দরগা, ঈদগাহ—সব ধরনের ধর্মীয় সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে, যা একটি ‘বড় ধরনের অনৈতিক কাজ‘। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে মুসলিম সমাজের নিজস্ব সম্পত্তি আগামী দিনে কোথায় থাকবে?” এবং কটাক্ষ করেন: “দিদি মুসলিম সমাজের সম্পত্তি সরকারি হাতে নিতে চাইছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুরে পৌঁছতেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বাড়াবাড়ি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অধীর। “মুখ্যমন্ত্রী বহরমপুরে পৌঁছতেই তৃণমূল নেতারা ‘হাতির পাঁচ পা দেখে ফেলেছে‘ এই মন্তব্য করে অধীর বলেন, কংগ্রেসের সাধারণ কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এখনই অত্যাচার শুরু হয়ে গেছে। এসব বরদাস্ত করা হবে না।”
সর্বশেষে, অধীর চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে চূড়ান্ত প্রশ্নটি রাখেন: “দিদি, মোদির সঙ্গে আপনার ফারাকটা কোথায়?”