নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ:
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার বিকেলে মুর্শিদাবাদ জেলায় পৌঁছলেন। বিকেল ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ তাঁর হেলিকপ্টার বহরমপুরের ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে অবতরণ করে। জেলার প্রশাসনিক তৎপরতা এবং দলীয় কর্মীদের বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের সূচনা হলো।
মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হেলিপ্যাডে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এঁদের মধ্যে ছিলেন জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ সহ অন্যান্য পুলিশ কর্তারা।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ছিলেন বহরমপুর ও জঙ্গিপুর তৃণমূলের দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার ও খলিলুর রহমান, আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা পরিষদ সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি সহ একাধিক প্রথম সারির নেতৃত্ব।
হেলিকপ্টার থেকে নেমেই তৃণমূল সুপ্রিমো মাঠের চারপাশে উপস্থিত অনুগামীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এরপর বহরমপুর মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান। ভিড়ের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেঁটেই ব্যারাক স্কোয়ার ময়দান থেকে সার্কিট হাউসের দিকে যান। মুখ্যমন্ত্রীর রাত্রিযাপন সার্কিট হাউসেই নির্ধারিত। গোটা সফর ঘিরে আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল মাঠ জুড়ে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ৩ দিনের মুর্শিদাবাদ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বহরমপুর তিনি মালদায় জনসভায় যাবেন। সভা শেষে তিনি আবার বহরমপুরে ফিরে আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী বহরমপুর স্টেডিয়ামে একটি বিশাল জনসভা করবেন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনা (কেন্দ্রীয় পাওনা), SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধনী) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ফের সরব হবেন। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের জনসভায় SIR আতঙ্কে মৃতদের পরিবার এবং সদ্য প্রয়াত খড়গ্রামের বিএলও-র পরিবারও উপস্থিত থাকতে পারেন।
সাম্প্রতিককালে বহরমপুরে তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত জেলার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।