নিজস্ব সংবাদদাতা, ইসলামপুর | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সীমান্ত জেলা মুর্শিদাবাদে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ইসলামপুর থানার হুড়শি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একইসঙ্গে, ওই বিদেশিদের বেআইনিভাবে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই হুড়শি গ্রাম পঞ্চায়েতের চর গোপালপুর গ্রামে অপরিচিত কিছু যুবকের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি প্রশাসনের কানে পৌঁছতেই তৎপর হয় ইসলামপুর থানা। শুক্রবার দুপুরে ডোমকল মহকুমা পুলিশ ও ইসলামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবের আলির বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালায়।
ওই বাড়ি থেকেই হাতেনাতে ধরা পড়ে ১২ জন যুবক। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা ভারতে প্রবেশের বা বসবাসের কোনো বৈধ নথিপত্র (পাসপোর্ট বা ভিসা) দেখাতে পারেনি। জেরার মুখে তারা স্বীকার করে যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। ধৃতদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিক সাবের আলিকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ধৃত ১২ জন বাংলাদেশির নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলো— ১. মোঃ আউল (২৫) ২. আব্দুল খালেক (৩৮) ৩. সুমন আলি (৩০) ৪. সুক্কুদ্দিন (২৬) ৫. খবির (১৯) ৬. শহিদুল (৩৫) ৭. মোঃ সাব্বির (২২) ৮. মোঃ জিয়ারুল হক (৩৮) ৯. মজদার আলি (৩৬) ১০. মোঃ খায়েরুল (২৭) ১১. মোঃ রনি (২৩) ১২. রুহুল আমিন (৩৪)
কেন এই ১২ জন বাংলাদেশি এক জায়গায় জড়ো হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। রাজ্যে সম্প্রতি নথিপত্র যাচাই বা ‘SIR’ (Systematic Identification Record) নিয়ে যে কড়াকড়ি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন এরা কি কাজের সন্ধানে সদ্য ভারতে প্রবেশ করেছিল? নাকি ‘SIR’ আতঙ্কে ভীত হয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল?
ডোমকল মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “ধৃতরা কেউই বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এরা কী উদ্দেশ্যে এদেশে এসেছিল, কারা তাদের সীমান্ত পার করতে সাহায্য করেছে এবং এদেশে আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে।”
ধৃত মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আশ্রয় দানের মামলা রুজু করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ। শনিবার তাদের বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার গভীরতা ও আন্তর্জাতিক চক্রের হদিশ পেতে পুলিশ আদালতের কাছে ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের নজর থাকবে এলাকাজুড়ে। এই ঘটনার পর সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বাড়তি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।