নিজস্ব সংবাদদাতা, নবগ্রাম (মুর্শিদাবাদ):
রাজ্য পরিবহন দপ্তরের বাধ্যতামূলক টোটো রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স ফি-এর প্রতিবাদে আজ থেকে ধর্মঘটে নামলেন মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম ব্লকের গুড়া পাঁশলা অঞ্চলের টোটো চালকরা। এই আকস্মিক ধর্মঘটের জেরে বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত টোটো চলাচল, যার ফলস্বরূপ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন স্থানীয় মানুষজন ও দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটে নাগাদ আয়রা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন চারমাথা মোড়ে গুড়া পাঁশলা অঞ্চলের টোটো চালকরা একটি প্রতিবাদ পথসভা করেন। এই সভা থেকেই তাঁরা ঘোষণা করেন যে, যতদিন না সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
রাজ্য সরকার টোটো চলাচলের জন্য রেজিস্ট্রেশন এবং চালকের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে এবং এর জন্য নির্দিষ্ট একটি ফি ধার্য করেছে। টোটো চালকদের বক্তব্য, এই ফি এককালীন দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। তাঁদের দাবি, দেশে কাজ নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। কেউ সোনা বন্ধক রেখে, তো কেউ চাষের জমি বিক্রি করে টোটো কিনে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন। এই চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে রাজ্য সরকারের ধার্য করা এই এককালীন রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পূর্ণ অমানবিক। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
টোটো ধর্মঘটের জেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষত নবগ্রাম ব্লকের আয়রা মোড় এলাকায় বাইরে থেকে আসা যাত্রীরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হন। বহরমপুর কিংবা রামপুরহাট থেকে আসা বহু যাত্রী আয়রা মোড়ে পৌঁছে বাড়ি যাওয়ার জন্য কোনো টোটো না পেয়ে হতাশ হন। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তাঁরা অতিরিক্ত টাকা দিয়েও কোনো যানবাহন জোগাড় করতে পারেননি।
স্থানীয় মানুষজন ক্যামেরার সামনে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গভীর রাত্রে অসুস্থ হয়ে গেলে তাঁদের একমাত্র ভরসা এই টোটোই। সময় মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় টোটোই জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করে। টোটো উঠে গেলে বা এমনভাবে ধর্মঘট চললে সাধারণ মানুষ গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হবেন।
টোটো চালকরা একদিকে যেমন তাঁদের রুজিরুটির প্রশ্ন তুলে ধরেছেন, তেমনি অন্যদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগের ছবিও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি বলে মনে করছেন সকলেই।