নিজস্ব সংবাদদাতা, হরিহরপাড়া: পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত, কোথাও আবার রাস্তা ভেঙে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। ভাকুড়ি থেকে হরিহরপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ রাজ্য সড়ক দিয়ে যাতায়াত করাই এখন এলাকাবাসীর কাছে এক বিভীষিকা। নিত্যদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে, আর প্রশাসনের উদাসীনতায় ঝরে যাচ্ছে একের পর এক তরতাজা প্রাণ। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে এই রাস্তার গর্তের জেরে প্রাণ গেল দু’জনের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরেই ভাকুড়ি-হরিহরপাড়া সড়কের অবস্থা শোচনীয়। বিশেষ করে বারুইপাড়া মাঠপাড়া সংলগ্ন এলাকা এখন ‘ব্ল্যাক স্পট’-এ পরিণত হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে তৈরি হওয়া গভীর গর্তে বাইক বা গাড়ির চাকা পড়লেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন চালকরা।
রাস্তার এই বেহাল দশার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দিন পনেরো আগে বারুইপাড়া মাঠপাড়া এলাকায় বাইকের চাকা গর্তে পড়ে ছিটকে যান হরিহরপাড়ার প্রদীপডাঙ্গা গ্রামের এক মহিলা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কলকাতার এনআরএস (NRS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর তিনি হার মানেন। গত ২১শে নভেম্বর ওই একই জায়গায় (বারুইপাড়া মাঠপাড়া) ফের ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন সাজিকুল শেখ নামের এক বাইক চালক। পাঁচ দিন হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানির পর গত মঙ্গলবার তাঁরও মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্ঘটনারোধে কয়েক মাস আগে প্রশাসনের তরফে বাম্পার বসানো হয়েছিল, কিন্তু নিম্নমানের কাজের জেরে তা অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর ইটের টুকরো ফেলে গর্ত ভরাট করার এক লোক দেখানো চেষ্টা হয়, যা এখন ধুলোয় মিশে গেছে। একটু বৃষ্টি বা ভারী যান চলাচল করলেই সেই ইটের খোয়া উঠে গিয়ে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
প্রতিদিন প্রাণ হাতে নিয়ে এই পথে চলতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া, অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের একটাই প্রশ্ন—আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? নিছক জোড়াতালি নয়, অবিলম্বে ভাকুড়ি থেকে হরিহরপাড়া পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে ও স্থায়ীভাবে মেরামতি করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভের সুরে বলেন, “এটা রাস্তা নয়, যেন মৃত্যুকূপ। আমরা প্রশাসনের কাছে কাতর আর্জি জানাচ্ছি, দয়া করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। নাহলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হব আমরা।”
আপাতত আতঙ্কের প্রহর গুনছে হরিহরপাড়াবাসী, কবে সারবে এই মরণফাঁদ সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।