নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে দুদিনের ঝটিকা সফরে মুর্শিদাবাদে পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বিশেষত সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি, ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) বিতর্ক এবং স্থানীয় নেতার উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলায় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই সফর বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ রানাঘাট থেকে ট্রেনে চেপে বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে নামেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে করে তাঁর এই আগমনের সময় রেলওয়ে ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

স্টেশন থেকে তিনি সরাসরি বহরমপুর সার্কিট হাউসে ওঠেন। সেখানে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রথাগত মর্যাদার সঙ্গে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সার্কিট হাউসের ভেতর প্রবেশ করেন রাজ্যপাল। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিজস্ব রক্ষী বাহিনী ছাড়াও বাইরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
বহরমপুর আসার আগে রানাঘাটে ট্রেনে ওঠার সময় রাজ্যপাল সাংবাদিকদের সামনে তাঁর সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। যখনই এখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বা এমন কোনো ঘটনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে খবর পাই, তখনই আমি এখানে আসি। সমাজের জন্য এটি মোটেও ভালো নয় যে পথভ্রষ্ট রাজনীতিকরা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এমন কাজ করছেন।”

রাজ্যপাল আরও যোগ করেন, “সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের একজন বিধায়ক অত্যন্ত উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। আমার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো এখানকার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কী, তা নিজেই মূল্যায়ন করা এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
রাজ্যপালের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি গতকালই (সোমবার) স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে এই সীমান্ত পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলায় ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই সমস্ত বিষয়ই রাজ্যপালের সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সার্কিট হাউস থেকে রাজ্যপাল এদিন তাঁর প্রথম গন্তব্য জিয়াগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দেবেন।