নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর | ২৫ নভেম্বর ২০২৫
কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাড়ছে স্থূলতা, অথচ শরীরে রয়েছে পুষ্টির অভাব। এর নেপথ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং ফাস্ট ফুডের প্রতি অত্যধিক আসক্তি। বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল ইউনিসেফ (UNICEF) পশ্চিমবঙ্গ এবং বহরমপুর গার্লস’ কলেজের আইকিউএসি (IQAC) বিভাগ।
মঙ্গলবার কলেজের অমিয়া রাও কনফারেন্স হলে ‘ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন’ (খাদ্য ও পুষ্টি) বিষয়ক এই বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ, কলেজের অধ্যাপকমণ্ডলী এবং বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচিত প্রায় ৮০ জন ছাত্রী।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: সুস্থ থাকতে চাই সুষম আহার
সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ড. মিতালি পালোধ্যি এবং ড. অদিতি সেন। তাঁরা বর্তমান প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যের ওপর তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও রোগ: ড. মিতালি পালোধ্যি তাঁর বক্তব্যে জানান, “বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এবং স্থূলতা উভয় সমস্যাই প্রকট হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো অনিয়মিত জীবনযাপন ও জাঙ্ক ফুডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। এই বয়সে জীবনধর্মী রোগ (Lifestyle Diseases) বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। তাই এখন থেকেই সুষম খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
- সুস্থতার চাবিকাঠি: অন্যদিকে, ড. অদিতি সেন শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার মৌলিক দিকগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র দামী খাবার খেলেই হবে না, খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা, নিয়মিত পর্যাপ্ত জলপান, সঠিক সময়ে আহার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এগুলিই সুস্থ থাকার ভিত্তি। স্কুল ও কলেজ স্তর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।”

সেমিনারের গুরুত্ব প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ ড. হেনা সিনহা ফাস্ট ফুডের কুপ্রভাব নিয়ে ছাত্রীদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন: “আজকের সেমিনারটি ইউনিসেফের উদ্যোগে এবং কলেজের আইকিউএসি-র সহযোগিতায় আয়োজিত হয়েছে। বক্তারা যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা বিশেষ করে সেইসব ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী যারা ফাস্ট ফুডে আসক্ত। আমরা ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি সময়োপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য।”
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নোটিস অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচিত ৮০ জন ছাত্রী এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। গুরুগম্ভীর আলোচনার পাশাপাশি দুপুরের লাঞ্চ ও রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থাও ছিল, ফলে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠান শেষে কলেজের IQAC কো-অর্ডিনেটর ড. পার্থ সারথি গুহ জানান, “এই ধরনের প্রোগ্রাম আমরা অনেক আগে থেকেই করে আসছি। ছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এবং পুষ্টি সংক্রান্ত ভুল ধারণা বা কুসংস্কার দূর করতে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করব।”
এই সেমিনারটি ছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা রাখছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।