‘ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই গর্দান যাবে না’, বেলডাঙ্গায় মৃত্যুর ঘটনায় অভয়বাণী অধীরের, তোপ বিজেপি-তৃণমূলকে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জেলাজুড়ে ছড়ানো গুজবের জেরে প্রাণ গেল এক মহিলার। বেলডাঙ্গার সুরুলিয়া গ্রামে আতঙ্কে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সোমবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করলেন, অন্যদিকে এই ‘পরিকল্পিত আতঙ্ক’ ছড়ানোর জন্য বিজেপি ও তৃণমূল উভয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন।

অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, এসআইআর নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তালিকায় নাম না থাকলেই হয়তো দেশছাড়া হতে হবে। সুরুলিয়া গ্রামের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,

“এসআইআর মানে এই নয় যে নাম না থাকলে গর্দান যাবে বা কাউকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার লিস্টে নাম না থাকলেই কেউ নাগরিক নয় এমন কথা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই। ভারতবর্ষে এমন অনেক নাগরিক আছেন যারা ভোট দেন না, নামও তোলেন না। তাই বলে কি তাঁরা ভারতের নাগরিক নন?”

মানুষকে সাহস জোগাতে তিনি অতীতের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। অধীরবাবু বলেন, “দেশে এর আগেও আটবার এসআইআর হয়েছে। তখনও বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। কিন্তু তারপর কি কাউকে দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে? বিহারেও এসআইআর হয়েছে, সবার নাম ওঠেনি। কিন্তু তাঁরা তো দেশছড়া হননি।” তাঁর দাবি, মানুষকে ভয় পাইয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।

বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অধীর বলেন, হিন্দু-মুসলিম বিভাজনই বিজেপির টিকে থাকার একমাত্র রসদ। বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা প্রসঙ্গে (বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যকে ইঙ্গিত করে) তিনি বলেন,

“৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনেই মসজিদ তৈরির ঘোষণা বা পাল্টা আস্ফালন এ সবই বিভাজনকে জিইয়ে রাখার রাজনীতি। হিন্দু-মুসলিম বিভাজন না থাকলে বিজেপির অস্তিত্ব থাকবে না। তাই অনুপ্রবেশকারী জুজু দেখিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।”

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকেও রেয়াত করেননি তিনি। সম্প্রতি জেলায় জীবিত মানুষকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ দেখানোর একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অধীর বলেন,

“বাংলায় জীবিতকে মৃত আর মৃতকে জীবিত দেখানোর কুখ্যাতি একমাত্র টিএমসির (TMC) আছে। ভোট লুট করা, পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচনে মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া এসব সবাই জানে। প্রশাসন এতটাই দলীয়করণ হয়েছে যে, বিএলও-রা (BLO) আজ দিশেহারা। তাঁরা যেদিকেই যাচ্ছেন, হুমকির মুখে পড়ছেন।”

এসআইআর নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে, মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সুরুলিয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রাক্তন সাংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *