নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বেলডাঙ্গায় ‘বাবরি মসজিদ’ গড়ার ঘোষণা করতেই এবার পালটা রাম মন্দির তৈরির ডাক দিলেন বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বহরমপুরে রাম মন্দিরের শিলান্যাস (ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন) করা হবে। প্ল্যান পাস হোক বা না হোক, রামের কাজে কেউ বাধা দিতে পারবে না এমনই হুঁশিয়ারি শোনা গেল তাঁর গলায়।
রাম মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি তুঙ্গে দাবি করে শাখারভ সরকার বলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বহরমপুরে রাম মন্দিরের শিলান্যাস হবে। প্ল্যান তৈরি হয়ে গেছে, দু-একদিনের মধ্যেই তা জমা পড়বে। তবে প্ল্যান পাসের সঙ্গে শিলান্যাসের কোনো সম্পর্ক নেই।”
প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, “পরিকল্পনা নিয়ে ভগবান রামচন্দ্রের ওপর কেউ দাদাগিরি করলে, তার ফল ভগবান নিজেই দেবেন। রাম মন্দির নিয়ে আলাদা করে রাজনীতির কিছু নেই। রাম সবার।”

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অতীত রাজনীতি টেনে এনে শাখারভ বলেন, “রাম নিয়ে অতীতে জ্যোতি বসু থেকে মমতা ব্যানার্জি অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। আজ মানুষ দেখছে তাঁদের বা তাঁদের দলের অবস্থান কোথায়। রামকে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।”
রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখন ছেলের নাম রাখতে গেলেও চারবার ভাবতে হয়, তৃণমূল পার্টি অফিসে অনুমতি নিতে হয়! মন্দিরে কোন ছবি থাকবে সেটাও নাকি মমতা ব্যানার্জির ওপর নির্ভর করে।”
বেলডাঙ্গার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি নিশানা করেন বিজেপি নেতা। হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণাকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে গেলেও, তাঁর অতীতের হুমকির কড়া জবাব দেন শাখারভ। তিনি বলেন, “উনি বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এই জেলায় ঢুকলে পা ভেঙে দেবেন, অথচ শুভেন্দুদা সভা করে গেছেন। আমাকেও বলা হয়েছিল দু’পায়ে এলে চার পায়ে ফেরত পাঠানো হবে। আমি ভয় পাই না। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই আমি বেলডাঙ্গায় সভা করে দেখিয়েছি।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে শাখারভ সরকার কার্যত হুঙ্কারের সুরে বলেন, “আমি প্রতিবাদী ছেলে। যা ভুল মনে হবে তার প্রতিবাদ করব। তৃণমূল যদি দশটা দেয়, আমি একটা দেব। ওরা যদি জাল ভোট করে, আমিও তার মোকাবিলা করব। আমি ফাঁকা আওয়াজ দিই না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাত দুটোয় তৃণমূলের তিনজনকে এনে পঞ্চায়েত গঠন করে প্রমাণ দিয়েছি।”
মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এখন ধর্মস্থান নির্মাণের প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। একদিকে হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ ও হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা, অন্যদিকে শাখারভ সরকারের রাম মন্দিরের শিলান্যাসের আল্টিমেটাম সব মিলিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে জেলা রাজনীতিতে মেরুকরণের হাওয়া ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ট্রাস্টে কারা থাকবেন, তা সময় হলেই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।