নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: একটি রাজনৈতিক সভা থেকে প্রাচীন শিবমন্দির সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের দেউল এলাকা। বিজেপি নেতা জালালুদ্দিন সেখ (আফাজ)-এর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে সোমবার বিকেলে পথে নামলেন শত শত গ্রামবাসী ও মন্দির কমিটির সদস্যরা। হলদিয়া-ফারাক্কা রাজ্য সড়ক সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত হলো বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সভা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২২ নভেম্বর ডাকবাংলা গরুর হাটে বিজেপির তরফে একটি রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সভার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতা জালালুদ্দিন সেখ দেউল শিবমন্দির সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, “দেউল মন্দিরে শূকরের মাংস ও মদ খাওয়া হয়।”

একটি পবিত্র তীর্থস্থান সম্পর্কে এমন ভিত্তিহীন ও অপমানজনক মন্তব্যের ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ ফ্রন্ট) ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়। মন্দির কমিটি এবং স্থানীয় ভক্তরা একে ‘নোংরা ও অসত্য অপবাদ’ বলে দাবি করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে দেউল মন্দির কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। হলদিয়া-ফারাক্কা রাজ্য সড়কের পাশে দেউল রাস্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় আইডিয়াল পাবলিক স্কুল পর্যন্ত এই মিছিল পরিক্রমা করে। মিছিলে পা মেলান অসংখ্য ভক্ত ও গ্রামবাসী। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, মুখে ছিল স্লোগান— “ধর্মের অপমান সহ্য হবে না”, “মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করা চলবে না”, “মিথ্যা অপবাদ ফিরিয়ে নাও”।
মিছিল শেষে দেউল মন্দির চত্বরে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, মন্দিরের সম্মান ও পবিত্রতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা তাঁরা মেনে নেবেন না। গণতান্ত্রিক পথেই এই অপমানের জবাব দেওয়া হবে।
মন্দির কমিটির এক সদস্য বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতেই এই ধরনের মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মন্দিরের সম্মান রক্ষার্থে আমরা প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছি।”
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের আবহ থাকলেও, শেষে মন্দির চত্বরে ভক্তদের জন্য ‘মহোৎসব’-এর আয়োজন করা হয়। সেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, উসকানিমূলক মন্তব্য করে গ্রামের দীর্ঘদিনের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধে ফাটল ধরানো সম্ভব নয়। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্ত নেতার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।