অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি কলকাতার সমাবর্তন ২০২৫

ডিগ্রি পেলেন ২০০০-এর বেশি পড়ুয়া, সম্মানিত বিশিষ্ট শিল্পপতিরা

কলকাতা, ২০ নভেম্বর ২০২৫: একাডেমিক উৎকর্ষ এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে গতকাল ১৯ নভেম্বর বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি কলকাতার ‘সমাবর্তন ২০২৫’ (Convocation 2025)। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্নাতক (Undergraduate), স্নাতকোত্তর (Postgraduate) এবং পিএইচডি (Doctoral) স্তরের প্রায় ২০০০ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় আচার্য (Chancellor) ডঃ অতুল চৌহান, উপাচার্য (Vice-Chancellor) ডঃ অশোক কে. শ্রীবাস্তব এবং সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মিস্টার ইউ. রামচন্দ্রন। অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে দেশের দুই বিশিষ্ট শিল্পপতি পিডব্লিউসি ইন্ডিয়ার (PwC India) চেয়ারপারসন মিস্টার সঞ্জীব কৃশাণ এবং ডাটাম্যাটিক্স গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মিস্টার রাহুল এল. কানোডিয়াকে ‘সাম্মানিক ডক্টরেট’ (Honorary Doctorate) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে ডঃ অতুল চৌহান বলেন, “সমাবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মেধার সঙ্গে সহমর্মিতা এবং জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকাও জরুরি। অ্যামিটির ছাত্রছাত্রীরা বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সততার সঙ্গেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ অশোক কে. শ্রীবাস্তব শিক্ষার্থীদের এই রূপান্তরমূলক যাত্রার প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীরা এখান থেকে কেবল ডিগ্রি নিয়ে ফিরছে না, তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে এক অদম্য কৌতূহল এবং মূল্যবোধ, যা আজকের এই জটিল বিশ্বে তাদের সাফল্যের পথ দেখাবে।”

সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মিস্টার ইউ. রামচন্দ্রন বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি, সমাজের প্রতি অর্থপূর্ণ অবদান এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের ক্ষমতার মধ্যেই অ্যামিটির গ্র্যাজুয়েটদের প্রকৃত সাফল্য নিহিত।”

সাম্মানিক ডক্টরেট গ্রহণ করে মিস্টার সঞ্জীব কৃশাণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যপূর্ণ নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রগতির জন্য সাহসী চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপউভয়ই প্রয়োজন।” অন্যদিকে, মিস্টার রাহুল এল. কানোডিয়া প্রযুক্তি ও মানবিকতার মেলবন্ধনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতের নেতাদের অবশ্যই প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে, তবে একই সঙ্গে তাদের হতে হবে নীতিবান ও চটপটে (Agile)যে গুণগুলো অ্যামিটি তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে গেঁথে দেয়।”

একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দিতে এদিনের অনুষ্ঠানে ২৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রী বলজিৎ শাস্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ (Shree Baljit Shastri Award) প্রদান করা হয়।

অভিভাবক, শিক্ষক এবং বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য নিদর্শন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার এক আদর্শ পরিবেশ গড়ে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *