খড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ। ১৭ নভেম্বর, ২০২৫। নিউজ ফ্রন্ট ডেস্ক:
অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুতকারীদের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত। গত কয়েকদিনের নিবিড় নজরদারি এবং টানা তল্লাশির পর অবশেষে খড়গ্রাম থানার পুলিশ সাদল গ্রাম থেকে মোট চারজন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি ১৩ তারিখের অভিযানে বাজেয়াপ্ত হওয়া বোমার সঙ্গে জড়িত দুই পলাতক আসামিকেও আটক করা সম্ভব হয়েছে। দুষ্কৃতী মহলে এই ঘটনা তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
গত ১৩ নভেম্বর খড়গ্রাম থানার পুলিশ স্নিফার ডগ স্কোয়াড, বিস্ফোরক সন্ধানকারী দল এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত বিশেষ বাহিনী নিয়ে সাদল গ্রামে প্রথমবার বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে দুটি পৃথক বাড়িতে বোমা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। তবে আসামিরা সেই সময় সকলে পলাতক ছিলেন।
তল্লাশির সময় গ্রামের মাঠে কয়েকজন দুষ্কৃতী অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যরা মাঠে তাড়া করলেও, নদীপথ থাকায় দুষ্কৃতীরা জলে নেমে ডোঙা ব্যবহার করে অপর পাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সেদিন তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ হাল না ছেড়ে গত ১৭ নভেম্বর গভীর রাতে পুনরায় সাদল গ্রামে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময়ের তল্লাশি ও নজরদারির পর ১৩ তারিখে পলাতক থাকা দুষ্কৃতীদের মধ্যে দু’জনকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃতরা হল আতাহার শেখ (৪০ বছর) এবং আলী রেজা (৫০ বছর) উভয়েরই বাড়ি সাদল গ্রাম, থানা খড়গ্রাম। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেখানো একটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়াও, ১৩ তারিখের অভিযানে যে দুটি বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছিল, সেই মামলায় পলাতক থাকা আরও দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে আব্বাস শেখ এবং সামিরুল শেখকে। এই দু’জনের বাড়িও সাদল গ্রামে।
ধৃত চারজনকেই আজ কান্দি মহকুমা আদালতে পুলিশ রিমান্ড চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধৃতদের কাছে আরও অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত থাকতে পারে। এই কারণে আগামী দিনগুলোতেও সাদল গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পুলিশের টানা তল্লাশি অভিযান চালু থাকবে।
খড়গ্রাম থানার পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অপরাধ দমনে এই অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। জনগণের নিরাপত্তাই তাদের প্রথম লক্ষ্য।