নিউজ ফ্রন্ট, শ্রীনগর, ১৫ নভেম্বর:
শ্রীনগরের নওগাঁম পুলিশ স্টেশনে (Nowgam Police Station) গতকাল গভীর রাতে এক ভয়াবহ আকস্মিক বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পরীক্ষা করার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে। পুলিশ এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) দল আন্তঃরাজ্য জঙ্গি মডিউল মামলায় (Inter-State Terror Module Case) ফরিদাবাদ থেকে আনা বিস্ফোরক দ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করছিলেন। প্রথমদিকে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে জম্মু–কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি নলীন প্রভাত জানিয়েছেন, ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের, আর আহত হয়েছেন মোট ৩২ জন, যাদের মধ্যে পুলিশকর্মী, রাজস্ব দপ্তরের কর্মী এবং আশপাশের সাধারণ মানুষও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে বহুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণটি ঘটে যখন ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) একটি দল জব্দ করা ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের নমুনা পরীক্ষা করছিল। এই বিস্ফোরকগুলি সম্প্রতি ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, ড. মুজাম্মিল গণাই নামে এক অভিযুক্তের ভাড়া বাড়ি থেকে। ওই ‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি মডিউল তদন্তের অংশ হিসাবে এসব রাসায়নিক এবং বিস্ফোরক জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময়ই হঠাৎ একাধিক ছোট বিস্ফোরণসহ বড় বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে গোটা থানার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনের দেয়াল ভেঙে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েন বহু পুলিশকর্মী। উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হয় আরও ছোট ছোট পরবর্তী বিস্ফোরণের কারণে।
ডিজিপি নলীন প্রভাত এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন,
“এই বিস্ফোরণটি সম্পূর্ণভাবে দুর্ঘটনাজনিত। জনগণকে অনুরোধ করছি এর পিছনে কোনও জঙ্গি হামলা বা ষড়যন্ত্র খোঁজার চেষ্টা না করতে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি খুবই অস্থিতিশীল ছিল, প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী FSL টিম দু’দিন ধরে নমুনা সংগ্রহ করছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনায় ২৭ জন পুলিশকর্মী, দুইজন রাজস্ব দপ্তরের কর্মী এবং তিনজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় থানার বড় অংশ ভেঙে পড়েছে।”
জম্মু–কাশ্মীর প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার অক্ষয় লাবরু বিস্ফোরণে আহতদের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসার অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।
এদিকে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণ এবং ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তার সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নওগাঁও এলাকায় জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করেও একটি FIR দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরেই ফরিদাবাদ ও শ্রীনগরে একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে।
নওগাঁও থানার বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে তদন্ত জারি রয়েছে। মূলত জব্দকৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের স্থিতিশীলতা, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া এবং নমুনা সংগ্রহের সময় ঠিক কী ভুল হয়েছিল—সেসব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রীনগরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিস্ফোরকের নিরাপদ সংরক্ষণ ও পরিচালনার প্রটোকল নিয়ে নতুন আলোচনাও শুরু হয়েছে।