নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:
দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত করতে এসে মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। বুধবার সকালে নবগ্রাম থানার নিমগ্রামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে হানা দেয় তদন্তকারী দল। জানা গেছে, দিল্লি বিস্ফোরণে ধৃত একজনের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ফোন নম্বর সূত্র ধরেই এই অভিযান।
সূত্রের খবর, বুধবার সকাল ৭টার দিকে নিমগ্রামের বাসিন্দা মইনুল হাসানের বাড়িতে আসেন এনআইএ-এর একটি দল। তাঁরা মইনুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজ করলেও তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মইনুল বর্তমানে কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে এনআইএ-এর আধিকারিকরা বাড়িতে কিছুক্ষণ তল্লাশি চালান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কিছু তথ্য নেন।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, মইনুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। সেই সময় তিনি কোনও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকতে পারেন। দিল্লির বিস্ফোরণের পর ধৃত একজনের ফোনে মইনুলের নম্বর পাওয়া গেলেই তাঁর উপর নজর পড়ে এনআইএ-এর।
মইনুলের ভাই আসাদ হোসেন বলেন, “দাদা আগে মুম্বাইয়ে কাজ করতেন, এখন আর যান না। দেশেই কাজ করেন। সকালে কিছু লোক এসেছিল, কিছু জিজ্ঞেস করতে। আমরা ওদের কিছু জানি না।” যদিও এনআইএ-এর সফরের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণের দু’দিন পরেই বাংলায় আসে এনআইএ-এর একটি দল। নিমগ্রাম ছাড়াও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁরা তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
তাই দিল্লির নাশকতার ঘটনায় মুর্শিদাবাদের নাম ওঠায় ফের একবার জেলাটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে পড়েছে। মইনুল হাসান কোনও জঙ্গি মডিউলের অংশ কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে তাঁর মতো আরও কয়েকজন উপর নজর রাখছে এনআইএ।