এসপি-র হেল্পলাইনে গোপন সূত্র, বাড়ি থেকে উদ্ধার পিস্তল-মাস্কেট-গুলি
নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ
বোমা উদ্ধারের পর এবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ফের বড় সাফল্য পেল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। শনিবার রাতে বেলডাঙা ও ডোমকল থানার পৃথক অভিযানে মোট সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নির্দেশে চালু হওয়া বিশেষ হেল্পলাইনে পাওয়া গোপন সূত্রের ভিত্তিতেই এই সাফল্য বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেলডাঙা থানার আইসি সুমিত তালুকদারের নেতৃত্বে জালালপুর ডাঙাপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই বাড়ির মালিক কাজল শেখ (২৯)-এর ঘর থেকে উদ্ধার হয় পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চারটি তাজা কার্তুজ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি দেশি পিস্তল ও একটি মাস্কেট। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত কাজল শেখ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও গুলির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এসব অস্ত্র দুষ্কৃতীদের কাছে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে মজুত করেছিল।
অন্যদিকে, ডোমকল থানার পুলিশ শনিবার রাতে দুটি পৃথক অভিযানে আরও দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তিনটি কার্তুজ উদ্ধার করে। আইসি পার্থ সারথি মজুমদারের নেতৃত্বে সাহাবাজপুর উত্তরপাড়া এলাকায় তৌহিদুল মন্ডলের বাড়ি থেকে একটি দেশি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দ্বিতীয় অভিযানে ডোমকলের আমিনাবাদ বটতলাপাড়ায় উহাব সেখের বাড়ি থেকে আরও একটি দেশি বন্দুক ও তিনটি কার্তুজ উদ্ধার হয়। তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধেই অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

রবিবার বেলডাঙা থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসডিপিও উত্তম গড়াই জানান, “গতকাল রাতে আমাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বেলডাঙা থানার আইসি সুমিত তালুকদার জালালপুরে অভিযান চালান এবং কাজল শেখের বাড়ি থেকে চারটি ইমপ্রুভাইজড ফায়ার আর্মস (পিস্তল) ও একটি মাস্কেট সহ চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। এই অস্ত্রগুলি বাইরে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই মজুত করা হয়েছিল। এই ধরনের ইমপ্রুভাইজড আগ্নেয়াস্ত্রের দাম প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।”

এসডিপিও আরও জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে চালু হওয়া বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরে (9144455518) পাওয়া দুটি ফোন কলের ভিত্তিতেই সম্প্রতি বেলডাঙা থানা এলাকা থেকে ২৩১টি সকেট বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “যদি কারও কাছে বোমা বা অস্ত্র সংক্রান্ত কোনও তথ্য থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে ওই নম্বরে ফোন করুন। আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।” তিনি জানান, এই হেল্পলাইনটি সরাসরি জেলা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিরীক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।


জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে এই ধারাবাহিক অভিযান মুর্শিদাবাদকে অস্ত্র-বোমামুক্ত করার লক্ষ্যে এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পুলিশের এই উদ্যোগ আসন্ন নির্বাচনের আগে জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। পুলিশের এই তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাঁরা জেলা প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন।