প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের বাসভবনে মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলকে সংবর্ধনা জানালেন। দলের প্রত্যাবর্তন ও সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি ‘ফিট ইন্ডিয়া’ বার্তা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ৫ নভেম্বর:
মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলকে বুধবার নিজের সরকারি বাসভবন লোককল্যাণ মার্গে সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দলের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন এবং বিপর্যয়ের মধ্যেও জয়ের মানসিক শক্তির প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমাদের জয় শুধুমাত্র একটি ট্রফি নয়, এটি কোটি কোটি ভারতবাসীর গর্বের প্রতীক।” ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কউর স্মরণ করেন, “২০১৭ সালে আমরা যখন প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমবারের মতো দেখা করতে এসেছিলাম, তখন আমাদের হাতে ট্রফি ছিল না। এবার আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করেছি। আশা করি, এমন আনন্দের মুহূর্ত আরও বাড়বে।” সহ-অধিনায়িকা স্মৃতি মান্ধানা জানান, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আজ দেশের মেয়েরা সবক্ষেত্রে সফল হচ্ছে, তার পিছনে প্রধানমন্ত্রী মোদির উৎসাহ ও দৃষ্টিভঙ্গির বড় ভূমিকা আছে।” অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা বলেন, “২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছিলেন কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন লক্ষ্য পূরণ হবেই। আজ সেই কথা সত্যি হয়েছে।”

মজার মুহূর্তও ছিল আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রী দীপ্তির হাতে থাকা ‘জয় শ্রী রাম’ ট্যাটু এবং ভগবান হনুমানের চিত্র দেখে বলেন, “এই বিশ্বাসই তোমার শক্তির মূল।” হরমনপ্রীতকে জিজ্ঞাসা করেন, কীভাবে তিনি সবসময় এত স্থির থাকেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে থাকা আমার জীবনের অভ্যাস হয়ে গেছে।” ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হরলিন দেওলের অবিশ্বাস্য ক্যাচের প্রসঙ্গও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তোমাদের প্রতিটি মুহূর্তই দেশের অনুপ্রেরণা।” ফাইনালের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলেন, “তুমি শুধু বল নয়, ইতিহাসকেও নিজের হাতে রেখেছ।” আমনজোত কউরের বিখ্যাত “ফাম্বল ক্যাচ”-এর কথাও ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, “ক্যাচ নেওয়ার সময় বল দেখো, কিন্তু ক্যাচ ধরার পর ট্রফির দিকে তাকাও।” দলের সদস্য ক্রান্তি গৌড় জানান, তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে বলেন, “তাহলে একদিন দেখা করতেই হবে।”

শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি সবাইকে ‘ফিট ইন্ডিয়া’ মিশনের বার্তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে বলেন। তিনি বলেন, “আজকের যুব প্রজন্মের বড় চ্যালেঞ্জ স্থূলতা। মেয়েরা যদি ফিটনেসের দায়িত্ব নেয়, তবে গোটা সমাজই অনুপ্রাণিত হবে।” প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন, “তোমরা নিজেদের স্কুলে ফিরে যাও, ছোটদের সামনে উদাহরণ তৈরি করো, দেখাও কীভাবে স্বপ্ন ও শৃঙ্খলা একসঙ্গে চলে।” ভারতীয় মহিলা দলের এই ঐতিহাসিক জয় এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণামূলক বার্তা একসঙ্গে যেন দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
