এসআইআরের প্রতিবাদে কলকাতার রাস্তায় তৃণমূলের মহামিছিল, বিজেপি ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতাঃ

ধর্মতলা থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত শহরজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের গণমিছিল আজ রাজনীতির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে থেকে এসআইআরকে ভারত ও বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকারকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা বলেই আক্রমণ করেন এবং কেন্দ্রে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেন।

দুপুরে ধর্মতলার আম্বেদকর ফলকের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিশাল প্রতিনিধিত্ব ছিল। মুখ্যমন্ত্রী কাঁধে সংবিধানের কপি নিয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের জেলা-রাজ্য স্তরের জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী এবং সমাজের বিভিন্ন খাতের বিশিষ্টজন মিছিলটি জোড়াসাঁকো পর্যন্ত পরিচালিত করেন এবং সেখানে সমাবেশে বক্তব্য দেন। সভায় তারা এসআইআরকে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়ার দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটি বাংলার গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ বলেই আখ্যা দেন।

মমতা বলেন, যারা বাংলার ভোটারদের নাম কেটে দেবে তারা দেশ-জোড়ার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, ‘‘বাংলা ভাষায় কথা বললেই কেউ বাংলাদেশি হয় না, তেমনি হিন্দি বা উর্দু বললেই পাকিস্তানি হয় না’’ এবং ভাষাকে উসকে দিয়ে জনগণের বিচ্ছিন্নতা ঘটানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘কুর্সিবাবু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, দ্রুত তাড়াহুড়া করে এই এসআইআর করার পেছনে রাজনৈতিক মঞ্জুরি কাজ করছে। সভায় তিনি আরও বলেন যে, যদি বাংলার একজনও যোগ্য ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারেরও টেকসইতা প্রশ্নচিহ্নে পড়বে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, যদি কোন স্থানে যোগ্য ভোটারের নাম বেআইনিভাবে সরিয়ে দেওয়া হয় তারা সেই বিষয়ে দিল্লি পর্যন্ত গণআন্দোলন সংগঠিত করবেন। তিনি বুথ লেভেল অফিসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নাম বাদ পড়া প্রতিটি কেস আন্দোলনের বিষয় বানানো হবে বলে জানান।

আজকের মিছিলের কারণে শহরের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা রুদ্ধ ছিল। যান চলাচল দীর্ঘ সময় স্তব্ধ থাকায় সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীরা অসুবিধায় পড়েন। তৃণমূল নেতাদের এই পরিবেশনায় অভিযোগ উঠেছে যে এসআইআরের অতি-দ্রুত প্রয়োগে অজানা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। দল দাবি করছে, এসআইআর ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে কয়েকটি আতঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নিলে প্রাণহানি ঘটতে পারে।

সভায় মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের চাপের কাছে বিমুখ হয়ে অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং দ্রুত সময়ে সমাধান না করলে তা বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেবে। তৃণমূল দাবি করেছে, এসআইআর একেবারেই স্বচ্ছভাবে না হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্ম হবে।

আজকের মিছিল রাজনৈতিক মঞ্চে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। তৃণমূল এসআইআরকে নিয়ে যে ইস্যুটি তুলে ধরেছে তা সহজে সরে যাবার নয়। কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের জন্য এখন প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ রকমে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে যেন সাধারন জনজীবন অকারণ ব্যাহত না হয় এবং ভোটাধিকার রক্ষায় প্রকৃত দাবি থাকলে আইনি পথে তা প্রমাণ করে নেওয়া হয়। গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। ওই শক্তির অবহেলা রাজনৈতিক আলোচনাকে অচল করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *