সুতি বাজিতপুরে পুলিশের অভিযান, উদ্ধার প্রায় ৩০০টি চোরাই মোবাইল, রয়েছে একাধিক iPhone ও

নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:

সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় আবারও বড়সড় সাফল্য পুলিশের। সুতি থানার পুলিশের অভিযানে বাজিতপুর ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার হল তিন ব্যাগ ভর্তি প্রায় ৩০০টি চোরাই মোবাইল ফোন। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলির মধ্যে একাধিক হাই-এন্ড মডেল ও iPhone রয়েছে বলে জানা গেছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর গোপন সূত্রে তথ্য আসে যে, বাজিতপুর ঘাট এলাকায় সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তি চোরাই মাল নিয়ে যাতায়াত করছে। সেই সূত্র ধরে সুতি থানার পুলিশ অভিযানে নামে। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তিনটি বড় ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায় এবং তাদের ফেলে যাওয়া তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যাগগুলির ভিতর থেকেই পাওয়া যায় এই বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন।

আজ রবিবার ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। উপস্থিত ছিলেন সুতি থানার আইসি সুপ্রিয় রঞ্জন মাঝিও।
শেখ শামসুদ্দিন জানান, “গতকাল রাতে আমাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য আসে যে বাজিতপুর ঘাট এলাকায় কিছু সন্দেহজনক কার্যকলাপ হচ্ছে। খবরের ভিত্তিতে সুতি থানার অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করেন। ওই ব্যাগ খুলে দেখা যায়, মোট প্রায় ৩০০টি মোবাইল ফোন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টি iPhone এবং অন্যান্য হাই-এন্ড ব্র্যান্ডের ফোনও আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা অনুমান করছি, এই মোবাইলগুলি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে জমা করা হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি, তবে পুলিশের তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পূর্বে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে এই চক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

“আমরা তদন্ত করছি, আগেও মোবাইল পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছিলাম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। বাজিতপুর এলাকাকে বাংলাদেশে চোরাচালানের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেন এসডিপিও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজিতপুর ঘাট এলাকাটি নদীপথ সংলগ্ন হওয়ায় পাচারকারীরা বহুদিন ধরেই এই রুটকে নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সম্প্রতি এলাকায় এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ কিছুটা কমলেও, শনিবারের উদ্ধার ঘটনাটি ফের ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সীমান্তবর্তী চক্রটি এখনো সক্রিয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলির IMEI নম্বর সংগ্রহ করে তা দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি যাওয়া মোবাইলের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এই ফোনগুলির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চোরাচালান চক্রের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *