নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:
দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র একদিনের মধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতার নিদর্শন রাখলেন মুর্শিদাবাদের নবনিযুক্ত জেলা শাসক নিতিন সিংহানিয়া (IAS)। সোমবার তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আন্তঃদপ্তরীয় সমন্বয় নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ও হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপির দপ্তরে। উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল তথা এমএসভিপি ডাঃ অনাদি রায় চৌধুরী, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সন্দীপ সান্যাল, অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) চিরন্তন প্রামাণিক, বহরমপুর মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায়, বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি সহ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য আধিকারিকরা।

জেলা শাসক প্রথমেই ব্লাড ব্যাংক পরিদর্শন করেন, যেখানে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি পরিষেবা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন। এরপর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে মতামত শোনেন।
বৈঠক ও পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলা শাসক নিতিন সিংহানিয়া বলেন, “বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দূর করতে আজ আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পানীয় জল, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য পরিকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনকেও সমস্ত বিষয় অবহিত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিশেষভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও হাসপাতালের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার দিকেই তিনি গুরুত্ব দেবেন। তাঁর কথায়, “রোগীরা যাতে আরও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা পান, সেটাই প্রশাসনের লক্ষ্য।”
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক রদবদলের ফলে মালদহের প্রাক্তন জেলা শাসক নিতিন সিংহানিয়া সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি রাজর্ষি মিত্র (IAS)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। দায়িত্বের প্রথম দিন থেকেই জেলার প্রশাসনিক কার্যকলাপে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মনোভাব জেলার মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
জেলাশাসকের সক্রিয় ভূমিকায় স্পষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্বের সূচনাতেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের উন্নয়ন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়নই তাঁর অগ্রাধিকার।