মহানবমীতে জগদ্ধাত্রী পুজোর মূল পর্ব সম্পন্ন: চন্দননগর-কৃষ্ণনগরে উপচে পড়া ভিড়, একাদশী পর্যন্ত উৎসব


চন্দননগর, ৩০ অক্টোবর: আজ জগদ্ধাত্রী পুজোর মহানবমী। সকাল থেকেই মন্দির ও পাড়ার মণ্ডপে যথাবিধি নিয়ম মেনে পুজো সম্পন্ন হয়েছে। কাত্যায়নী তন্ত্র, দুর্গাকল্প এবং শূলপাণি-কালবিবেক গ্রন্থে নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী নবমী তিথিতেই দেবী জগদ্ধাত্রীর মূল পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

বেশ কিছু পুজো কমিটিতে সন্ধি পুজোর সঙ্গে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। আদি হালদারপাড়া সহ বিভিন্ন পুজো কমিটিতে পশুবলির পরিবর্তে কাঠ ও ফলমূলের প্রতীকী বলি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নবমী ভোগে চাউলপট্টি এলাকায় রান্না হয়েছে প্রায় আড়াইশো কেজি চালের পোলাও, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মহাভোগ হিসেবে।

চন্দননগর, মানকুণ্ডু ও ভদ্রেশ্বর মিলিয়ে এদিন সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিকেল হতেই রাজপথে শুরু হয় আলোর উৎসব। জগদ্ধাত্রী পুজোর আলোকসজ্জা দেখতে হাজির হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিখ্যাত আলোসজ্জার থিম ঘিরে মুগ্ধ সাধারণ মানুষ  কেউ তুলছেন সেলফি, কেউবা সরাসরি সম্প্রচার করছেন সামাজিক মাধ্যমে।

তবে বিপুল ভিড় সামলাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবাঞ্ছিত দুর্ঘটনা এড়াতে বেশ কিছু এলাকায় তোরণ খুলে ফেলা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু তোরণ খুলে ফেলা হতে পারে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।

যদিও পুজোর শেষ লগ্নে উৎসবের আমেজ এখনও তুঙ্গে। কারণ, এ বছর দশমীর বদলে একাদশী তিথিতে শোভাযাত্রা হওয়ার কথা নির্ধারিত হয়েছে। ফলে ঠাকুর দেখার জন্য আগামীকালও থাকবে একদিনের অতিরিক্ত সুযোগ। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এখন শুধুই ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এক ঐতিহ্য  যেখানে আলো, শিল্প, ভক্তি আর উৎসব মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *