নিউজ ফ্রন্ট, ৩০ অক্টোবর
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারিকেন মেলিসা’ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে অন্তত ২৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাইতি, যেখানে প্রবল বর্ষণে নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়, ফলস্বরূপ বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় বর্তমানে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা জারি রয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে টার্কস অ্যান্ড কাইকোস এবং বারমুডা পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জামাইকায় ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারীরা চারটি দেহ উদ্ধার করেছে। মেলিসা প্রথমে রেকর্ডভাঙা ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেন হিসেবে জ্যামাইকায় আঘাত হানে। পরে এটি দুর্বল হয়ে ক্যাটাগরি ৩ রূপে কিউবায় প্রবেশ করে। বুধবার রাতের শেষে আরও শক্তি হারিয়ে এটি ক্যাটাগরি ১ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যার সর্বাধিক বেগ এখন ঘণ্টায় প্রায় ৯০ মাইল (প্রায় ১৪৫ কিমি)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুর্যোগ সহায়তা প্রতিক্রিয়া দল (Disaster Assistance Response Team) ইতিমধ্যেই জ্যামাইকা, বাহামা ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হাইতির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে জরুরি ত্রাণ বহনের জন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আংশিকভাবে খোলা হচ্ছে।
কিউবার পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭ লক্ষ ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে অস্থায়ী ত্রাণকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, “এই ঝড়ে বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।” তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং ঘর থেকে অযথা না বেরোতে অনুরোধ করেছেন।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বাহামা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা পানিবন্দি মানুষদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চালাচ্ছেন।