অন্ধ্রপ্রদেশে ‘মন্থা’ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ওড়িশা-ছত্তীসগড়ে জারি ‘রেড অ্যালার্ট’

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি / বিশাখাপত্তনম:

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) সতর্কতা জারি করেছে — ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ দ্রুত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বিপর্যয়কর আবহাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আজ রাতেই ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপত্তনম ও কাকিনাড়া উপকূলে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। ইতিমধ্যেই শ্রীকাকুলম, বিজয়নগরম, বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লি, পূর্ব গোদাবরী, কোনাসীমা, কাকিনাড়া, কৃষ্ণা, নেল্লোর এবং প্রকাশম জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। উপকূলীয় এলাকাগুলিতে প্রবল থেকে অতি প্রবল বর্ষণ হবে বলে পূর্বাভাস।

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ন. চন্দ্রবাবু নাইডু আজ জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং সমস্ত জেলাশাসককে পূর্ণ প্রস্তুতিতে থাকার নির্দেশ দেন।
৩৫,০০০-রও বেশি মানুষকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে এবং ২৬টি জেলায় ২০০-রও বেশি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে খাদ্য, জল, ওষুধ এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF)-এর বিশেষ দলগুলি মোতায়েন রয়েছে উদ্ধারকাজের জন্য।

রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় আজ সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অধিকাংশ দোকান ও বাজার বন্ধ, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি খোলা রয়েছে।
কয়েকটি ট্রেন ও বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে, জেলাভিত্তিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলাগুলিতে পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম চালু করে রিয়েল টাইম সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
মৎস্যজীবীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইএমডি জানিয়েছে, আজ অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও ওড়িশা, ছত্তীসগড় ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে — এই তিন রাজ্যে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, পুদুচেরি, কারাইকেল ও রায়ালসীমায়ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়াও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত, ঝাড়খণ্ড, কেরল, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও গোয়ায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আইএমডি আরও জানিয়েছে, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লক্ষদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ ও মরাঠওয়াড়ায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র প্রভাবে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *