১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা অভিযান শুরু করবে নির্বাচন কমিশন

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ২৭ অক্টোবর

নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা অভিযান (Special Intensive Revision বা SIR) পরিচালিত হবে। কমিশনের লক্ষ্য  ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত ও হালনাগাদ করা।

আজ নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, “প্রথম দফার এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও অভিযোগ আসেনি। এবার দ্বিতীয় দফায় ১২ রাজ্যে একইভাবে কাজ চলবে।”

তিনি জানান, বিহারের প্রায় সাড়ে সাত কোটি ভোটদাতা প্রথম দফায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও), বুথ লেভেল এজেন্ট এবং ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের যৌথ উদ্যোগেই তা সফল হয়েছে। এবার যে রাজ্যগুলিতে অভিযান হবে, তার মধ্যে রয়েছে  পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লক্ষদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি ও আন্দামান-নিকোবর।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপটি হলো প্রশিক্ষণ পর্ব, যেখানে বিএলও, ইআরও এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে তথ্য যাচাই পর্ব শুরু হবে, যেখানে আগের ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হবে। তৃতীয় ধাপটি হলো এনুমারেশন পর্ব, যেখানে ভোটারদের ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলবে; এই পর্বে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বাধিক ১২০০ ভোটার রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটির গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি হলো: ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ করা হবে। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকার ওপর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে, যা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। সবশেষে, ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “১৯৫১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার এসআইআর হয়েছে। ২১ বছর পর আবার এই বিশেষ পুনর্বিবেচনা শুরু হচ্ছে।”

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে। কমিশন আরও উল্লেখ করেছে যে, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ১১টি নির্দিষ্ট নথি এবং এর সাথে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আধার কার্ড দেখানো যেতে পারে, তবে কেবল আধার কার্ড দিয়ে নাগরিকত্বের দাবি প্রমাণ করা যাবে না। এই ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নথির তালিকায় রয়েছে: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী/পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র; ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া নথি; জন্ম শংসাপত্র; পাসপোর্ট; মাধ্যমিক বা উচ্চতর শিক্ষাগত শংসাপত্র; রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র; ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট; জাতিগত শংসাপত্র; ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেনসের নথি; স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার; এবং জমি বা বাড়ির দলিল। কমিশন আরও আশ্বস্ত করেছে যে, এই ১১টি নথির বাইরেও যদি অন্য কোনো নথি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারে, তবে তাও গ্রহণ করা হবে।

জ্ঞানেশ কুমার আরও জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনে যেসব ভোটার পড়তে বা লিখতে অক্ষম, তাঁদের বাড়ি গিয়ে বিএলওরা সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে এক জন ভোটারের বাড়িতে তিনবার পর্যন্ত যাবেন বিএলওরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো অসমে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকলেও সেখানে এসআইআর হচ্ছে না। কারণ, এনআরসি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সেখানে নিজস্ব বিধান কার্যকর রয়েছে বলে জানান জ্ঞানেশ কুমার ।

এই পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫১ কোটি ভোটারের তথ্য হালনাগাদ হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *