নিউজ ফ্রন্ট, কুর্নুল, অন্ধ্রপ্রদেশ | ২৪ অক্টোবর
রাজস্থানের পুনরাবৃত্তি, অন্ধ্রপ্রদেশে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শুক্রবার ভোররাতে কুর্নুল জেলার চিনা টেকুর গ্রামের কাছে একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট বাসে আগুন লেগে অন্তত ২৫ জন যাত্রী পুড়ে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন একাধিক যাত্রী। বাসটি হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাইকটি বাসের নিচে আটকে পড়ে এবং বাইকের পেট্রোল ট্যাংকের ঢাকনা খুলে গিয়ে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে। যাত্রীদের অধিকাংশ তখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে অনেকে বেরোতে পারেননি।
বাসটিতে মোট ৪১ জন যাত্রী ছিলেন। জেলার প্রশাসক এ. সিরি জানিয়েছেন, এর মধ্যে ২১ জনকে করা গেছে, বাকিদের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসের দরজায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হওয়ায় দরজা আটকে গিয়েছিল, ফলে পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। মৃতদের অধিকাংশই হায়দরাবাদের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসচালক এবং সহকারী ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। কুর্নুল রেঞ্জের ডিআইজি কোয়া প্রভীন বলেছেন, “সঠিক হতাহতের সংখ্যা ও পরিচয় যাচাই করা হবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। তদন্তের পরই সম্পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।”
দুর্ঘটনাস্থলে দমকল ও পুলিশ পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুড়ে যাওয়া দেহগুলি এতটাই ক্ষতবিক্ষত যে, পরিচয় নির্ধারণের জন্য ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ শুরু করেছে ফরেনসিক দল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্স (X)-এ তিনি লিখেছেন, “কুর্নুলের দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, “অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে বাস দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নরচন্দ্রবাবু নাইডু এক্স (X)-এ লিখেছেন, “কুর্নুল জেলার চিনা টেকুর গ্রামে ঘটে যাওয়া বাস অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানির ঘটনা মর্মান্তিক। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহতদের পাশে থাকবে রাজ্য সরকার।”
বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর শোঁক প্রকাশ করে লিখেছেন: “অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু হাইওয়েতে বাসে আগুনে বহু মানুষের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের দুর্ঘটনা জনপরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলে,”— লিখেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর বাসটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়। দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অধিকাংশ যাত্রীকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
পুলিশ মোটরবাইকটি কে চালাচ্ছিল, এবং কীভাবে বাসের নিচে গিয়ে আটকে পড়ল— সেই দিকেই নজর দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাস কোম্পানির নিরাপত্তা মান, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং রুট পারমিট সম্পর্কেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
চলতি মাসেই রাজস্থানের জয়সালমের-যোধপুর হাইওয়েতে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন যাত্রী আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কুর্নুলের এই দুর্ঘটনা গোটা দেশে নাড়া দিয়েছে। প্রশাসন, রাজনীতি ও সাধারণ মানুষ— সকলে এক সুরে বলছেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”