কলকাতা, ২০ অক্টোবর:
আলোর উৎসবের রাতে শহর আবারও কেঁপে উঠল শব্দদানবের তাণ্ডবে। প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং পুলিশের টহলদারি সব কিছুকেই কার্যত উপেক্ষা করে কালীপুজোর রাতে কলকাতার আকাশ-বাতাস ভরে গেল নিষিদ্ধ বাজির শব্দ আর ধোঁয়ায়।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৫২২ কেজি নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগে। এছাড়া উৎসবের রাতে অভব্য আচরণের অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বউবাজার, কালীঘাট, টালিগঞ্জ, নাকতলা, শ্যামপুকুর, বরানগর এবং যাদবপুর থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে। বেশ কিছু এলাকায় ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালিয়ে বাজি ফাটানোর ভিডিও প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
এদিকে, প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও প্রতি বছরই এই একই চিত্র ফিরে আসে। শব্দবাজির গর্জনে আতঙ্কিত প্রবীণ ও শিশুদের অভিযোগে ফোনে ভরে গিয়েছে লালবাজারের কন্ট্রোল রুম। পরিবেশবিদরা বলছেন, কয়েক ঘণ্টার এই শব্দ দূষণও ফুসফুসের সমস্যা, রক্তচাপ বৃদ্ধি ও মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।
তবে শহরের এই শব্দ-উন্মাদনার মধ্যেও কালীপুজোর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঠনঠনিয়া, লেক কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি থেকে দক্ষিণেশ্বর ও তারাপীঠসর্বত্রই চলছে দেবী আরাধনা ও দীপান্বিতা অমাবস্যার বিশেষ পূজা। রাজ্যের বিভিন্ন পীঠ যেমন কামাখ্যা, তমলুকের বর্গভীমা মন্দির, কঙ্কালীতলা, নৈহাটি এবং তারাপীঠে শক্তিপূজায় ভক্তদের ঢল নেমেছে।
দেবী কালীর আরাধনায় শক্তি, জ্ঞান ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দীপাবলির এই রাত চিহ্নিত হলেও, শহরের একাংশের বেপরোয়া আচরণ সেই আলোর উৎসবকে ঢেকে দিল শব্দের কুয়াশায়। প্রশ্ন উঠছেআইনি কড়াকড়ি ও পুলিশের অভিযান কি যথেষ্ট, না কি নাগরিক সচেতনতাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন?