নিউজ ফ্রন্ট | ছত্তীসগঢ় | ১৭ অক্টোবর
ছত্তীসগঢ়ের জগদলপুরে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র লড়াই চালানো ২০৮ জন নকশাল, যার মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা ও কমান্ডার, তাঁরা আজ আত্মসমর্পণ করলেন সরকারের কাছে।
ছত্তীসগঢ় পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ১১০ জন মহিলা এবং ৯৮ জন পুরুষ, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-এর বিভিন্ন স্তরের সদস্য ছিলেন। তাঁরা মোট ১৫৩টি অস্ত্র, যার মধ্যে ১৯টি একে-৪৭ রাইফেল, ১৭টি এসএলআর সহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এই ব্যাপক আত্মসমর্পণের ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই-এর উপস্থিতিতে, যিনি একে “নতুন ভারতের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন “এটি শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, গোটা দেশের জন্যই এক বড় বার্তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ নকশালমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ভারতকে পুরোপুরি নকশালমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। তাঁর কথায়, “আমরা বন্দুকের বদলে উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদকে পরাজিত করতে চাই।” অফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারী নকশালদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁদেরকে শিক্ষা, স্বনির্ভর কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, “আবুজমাড় এলাকার অধিকাংশ অঞ্চল এখন নকশালমুক্ত। উত্তর বস্তারের লাল আতঙ্ক প্রায় শেষ হতে চলেছে।”

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আত্মসমর্পণ ভারতের অন্দরমহলের দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস মোকাবিলায় এক বড় সফলতা, যা ভবিষ্যতে আরও বহু মাওবাদীকে আত্মসমর্পণের পথে উৎসাহিত করবে।