সিবিআইয়ের জালে পাঞ্জাবের ডিআইজি! ৫ কোটি টাকার ঘুষ-কাণ্ডে হরচরণ সিং ভুল্লার গ্রেফতার

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর:

তীব্র চাঞ্চল্য বিতর্কের মুখে পাঞ্জাব পুলিশ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই এবার সামনে এলো এক বরিষ্ঠ আইপিএস (IPS) অফিসারের নাম। একটি বহু কোটি টাকার ঘুষের মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) সরাসরি গ্রেপ্তার করল পাঞ্জাবের রূপনগর রেঞ্জের ডিআইজি (DIG) হরচরণ সিং ভুল্লারকে। একজন অভিযোগকারীর দায়ের করা এফআইআর (FIR) মিটমাট করার জন্য বিপুল অঙ্কের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে এই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। কেবল গ্রেপ্তার নয়, ডিআইজি-র বিভিন্ন আস্তানা থেকে কোটি টাকার বেশি নগদ, দেড় কেজি সোনা এবং প্রচুর সম্পত্তি উদ্ধার হওয়ায় এই ঘটনা পুলিশের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সূত্রের খবর, ২০০৯ ব্যাচের এই আইপিএস আধিকারিক বর্তমানে রূপনগর রেঞ্জের ডিআইজি পদে কর্মরত ছিলেন। সিবিআই জানিয়েছে, সম্প্রতি এক অভিযোগকারীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আসে যে, একটি নির্দিষ্ট এফআইআর ‘মিটিয়ে দেওয়া’র জন্য ডিআইজি ভুল্লার ঘুষ দাবি করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই একটি ট্র্যাপ অপারেশন চালিয়ে বৃহস্পতিবার চণ্ডীগড়ে তাঁর দপ্তরে গিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

তদন্তে জানা গেছে, হরচরণ সিং ভুল্লার ওই অভিযোগকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি বন্ধ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। পরে ঘুষের অর্থ গ্রহণের সময়ই তাঁকে এবং তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ডিআইজির চণ্ডীগড় ও পাঞ্জাবের একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সম্পত্তির কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন  নগদ প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। ১.৫ কিলোগ্রাম সোনা ও অন্যান্য গয়না মিলেছে। বিলাসবহুল সামগ্রী, অস্ত্র ও গোলাবারুদ-ও জব্দ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি অস্থাবর সম্পত্তির নথি ও সম্পদ বিনিয়োগের কাগজপত্রও উদ্ধার হয়েছে।

তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ এখনও চলছে। সিবিআই সূত্রে খবর, এই ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ অফিসার ও বেসরকারি ব্যবসায়ীর নাম তদন্তে উঠে আসতে পারে।

এই ঘটনায় পাঞ্জাব পুলিশের প্রশাসনিক স্তরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে সূত্র বলছে, অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলাদা তদন্তও শুরু হতে পারে।

সিবিআই জানিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় এখনো তল্লাশি এবং এই মামলার বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত চলছে। ঘুষ এবং দুর্নীতির এই অভিযোগে একজন বরিষ্ঠ আইপিএস অফিসারের গ্রেপ্তারে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *