যোধপুর-জয়সালমের হাইওয়েতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, ২০ জনের মৃত্যু

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর

রাজস্থানের জয়সালমের-যোধপুর হাইওয়েতে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন যাত্রী আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আরও ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের পরিবারের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন।

কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওত টুইট করে জানিয়েছেন, “জয়সালমের ও জোধপুরের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, “দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা নিজে জয়সালমের ও যোধপুর গিয়ে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।”
জয়সালমের থেকে যোধপুরগামী একটি প্রাইভেট এসি স্লিপার বাস মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিট পর বাসটির পিছন দিক থেকে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। চালক বাস থামালেও মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাসটি আগুনে ঘিরে যায়। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে বহু যাত্রী বেরোতে পারেননি  বাসের দরজা আটকে যাওয়াই মূলত মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জয়সালমেরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৈলাশ দান জানিয়েছেন, “অধিকাংশ দেহ বাসের মাঝামাঝি করিডোরে পড়ে ছিল। বোঝা যাচ্ছে, যাত্রীরা বেরোতে চেষ্টা করেও পারেননি, কারণ দরজাটি আগুনে জ্যাম হয়ে গিয়েছিল।”

স্থানীয় মানুষ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কাছাকাছি থাকা একটি জলবাহী ট্যাঙ্কারের সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। জয়সালমেরের পুলিশ সুপার অভিষেক শিভহারে জানান, “বাস থেকে ১৯টি দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, একজন আহত অবস্থায় জোধপুরে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। দেহগুলি শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেন, “এই দুর্ঘটনা গভীরভাবে মর্মান্তিক। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সাহায্য নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত, তবে অন্য সম্ভাবনাগুলিও  যেমন বাসে আতসবাজি বহনের আশঙ্কা  খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি সদ্য নিবন্ধিত ছিল এবং এটি ছিল তার মাত্র চতুর্থ যাত্রা।

এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে গোটা রাজস্থান শোকস্তব্ধ। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং প্রশাসন ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ ছাড়াও নিরাপত্তা মানদণ্ড পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

One thought on “যোধপুর-জয়সালমের হাইওয়েতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, ২০ জনের মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *