বিহার ভোটের আগে বড় ধাক্কা, IRCTC দুর্নীতি মামলায় লালু, রাবড়ি ও তেজস্বীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠন


নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর:
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) প্রধান লালু প্রসাদ যাদব এবং তাঁর পরিবারের জন্য বড় আইনি ধাক্কা। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্ট আজ IRCTC দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব, তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং পুত্র তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে IPC-এর ধারা ৪২০ (প্রতারণা), ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), এবং দুর্নীতি দমন আইনের ১৩(১)(ডি) ও ১৩(২) ধারার অধীনে চার্জ গঠন করেন। আদালত জানিয়েছে, লালু প্রসাদ যাদব তাঁর প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছিলেন, যার ফলে সরকারি আয়ে ক্ষতি হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

এই মামলার সূত্র ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে, যখন লালু প্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী ছিলেন। সিবিআই-এর অভিযোগ অনুযায়ী, এই সময় একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ওড়িশার পুরী এবং ঝাড়খণ্ডের রাঁচির BNR হোটেলগুলো প্রথমে ভারতীয় রেলওয়ের অধীনে থাকা অবস্থান থেকে IRCTC-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়, এবং পরে টেন্ডার প্রক্রিয়া বিকৃত করে পাটনাভিত্তিক সুজাতা হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেড-কে দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়া হয়। সিবিআই চার্জশিটে দাবি করেছে, টেন্ডারের শর্তগুলি এমনভাবে বদলানো হয়েছিল যাতে ওই নির্দিষ্ট সংস্থা প্রতিযোগিতা ছাড়াই চুক্তি পায়। মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন IRCTC-এর তৎকালীন গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার ভি. কে. আস্থান, আর. কে. গোয়েল, এবং সুজাতা হোটেলস-এর দুই ডিরেক্টর — বিজয় কোচ্ছার ও বিনয় কোচ্ছার, যারা চাণক্য হোটেলেরও মালিক। এছাড়া ডিলাইট মার্কেটিং কোম্পানি (বর্তমানে লারা প্রজেক্টস নামে পরিচিত) এবং সুজাতা হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেড-কেও কর্পোরেট অভিযুক্ত হিসেবে চার্জশিটে নাম দেওয়া হয়েছে।

আদালত আজ সকল অভিযুক্তের উপস্থিতিতে চার্জ গঠন করে জানায়, প্রাথমিক প্রমাণে দুর্নীতির অভিযোগ যথেষ্ট ও গুরুতর। অভিযুক্তরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতের বিস্তারিত রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে সকল অভিযুক্তকে চার্জ নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকতে হবে।

বিশ্লেষক মহলের মতে, এই রায় বিহার নির্বাচনের ঠিক আগে RJD-র জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হতে পারে। তেজস্বী যাদব, যিনি বর্তমানে বিহারে বিরোধী দলনেতা, তাঁর বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিহার রাজনীতিতে লালু পরিবারের এই নতুন আইনি জটিলতা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ময়দানে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *