বিহারের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। জোর জল্পনা — রঘুপুর বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন জনসুরাজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। নিজেই বলেছেন, “আমি রঘুপুর যাচ্ছি, ওখানকার মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই করা হবে।”
নিউজ ফ্রন্ট, বিহারঃ বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের হাওয়া বদলের ইঙ্গিত। রাজ্যের রঘুপুর (Raghopur) বিধানসভা আসন ঘিরে এখন উত্তপ্ত রাজনীতি। খবর, রাজনীতির কৌশলবিদ থেকে নেতা হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) এবার ওই আসন থেকেই ভোটে নামতে পারেন।
জনসুরাজ পার্টির (Janasuraj Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর শনিবার জানান,
“আমি রঘুপুর যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলব। ওখানকার মানুষ যা ঠিক করবেন, আমি তাই করব।”
এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন— আরজেডি (RJD)-এর গড় রঘুপুরে প্রশান্ত কিশোর কি তবে সরাসরি লালু পরিবারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছেন?
রঘুপুর দীর্ঘদিন ধরেই লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবার-এর প্রভাবাধীন এলাকা। বর্তমানে এই আসন থেকেই বিহারের বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বিধায়ক।
প্রশান্ত কিশোরের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনীতির অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি সত্যিই এই আসন থেকে প্রার্থী হন, তবে বিহারের রাজনীতিতে একটি “হাই-ভোল্টেজ কনটেস্ট” তৈরি হবে, যেখানে একদিকে তেজস্বী যাদব, অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোর— দুই রাজনৈতিক ভাবনাধারার সংঘাত দেখা যাবে।
জনসুরাজ পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, প্রশান্ত কিশোর রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য, “জনতার শাসন” প্রতিষ্ঠা করা — যা বিহারের পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
প্রশান্ত কিশোর আগেও বলেছিলেন,
“আমি কোনও দলে যোগ দিতে বা জোটে ভরসা রাখতে চাই না। আমি মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে চাই।”
রঘুপুরের ভোটারদের বড় অংশ এখনও জাতপাতের ভিত্তিতে ভোটদান করেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেখানে উন্নয়নমূলক ইস্যুও গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকের মতে, প্রশান্ত কিশোরের “ডেভেলপমেন্ট পলিটিক্স” হয়তো রাজনীতির পুরনো ধারা বদলে দিতে পারে।
রঘুপুরের মাটিতে লড়াই যদি সত্যিই হয় — তাহলে বিহারের নির্বাচনী রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে। একদিকে তেজস্বী যাদবের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরের সংস্কারকামী ভাবনা — বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে যাবে, তা নির্ধারিত হতে পারে এই রঘুপুরের ময়দানেই।