বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ভারতের প্রথম ‘মানসিক স্বাস্থ্য দূত’ (Mental Health Ambassador) হিসেবে মনোনীত করেছে। দীপিকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের উদ্যোগে নিজের সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।
নিউজ ফ্রন্ট, নয়া দিল্লি, ১১ অক্টোবর:
ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো শুক্রবার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দেশের প্রথম মানসিক স্বাস্থ্য দূত (Mental Health Ambassador) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানানো হয়েছে — দীপিকা এই সম্মান পেয়ে গর্ববোধ করেছেন এবং দেশের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সরকার যে দিকনির্দেশনা নিচ্ছে, তাতে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত রাখতে চান।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সহযোগিতা ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও দৃঢ় করবে এবং সমাজে মানসিক অসুস্থতা নিয়ে যে ‘স্টিগমা’ বা সামাজিক লজ্জা এখনও বিরাজমান, তা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
দীপিকা পাড়ুকোন নিজেও অতীতে নিজের অবসাদ (Depression)-এর সঙ্গে লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন এবং সেই থেকেই তিনি ‘Live Love Laugh Foundation’-এর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে চলেছেন।
মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে —
“মানসিক স্বাস্থ্য শুধুমাত্র চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি জীবনের মান উন্নয়নের একটি মৌলিক দিক। দীপিকার মত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানসিক সুস্থতার প্রতি সমাজের মনোভাব পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত ইতিমধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প যেমন — ‘মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইন (KIRAN)’, ‘ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’, এবং জেলা পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেন্টার সম্প্রসারণ — চালু করেছে। দীপিকার এই নিয়োগ সেই উদ্যোগগুলিকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
সামাজিক মাধ্যমে দীপিকা লিখেছেন,
“এই দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। মানসিক স্বাস্থ্য এমন এক বিষয়, যা নিয়ে আমাদের খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, এই মঞ্চকে ব্যবহার করব সচেতনতা, সহমর্মিতা ও সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দিতে।”
দীপিকা পাড়ুকোনের এই ভূমিকা নিঃসন্দেহে ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা আরও জোরালো হবে — “মনও যত্নের দাবি রাখে।”