আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

নিউজ ফ্রন্টঃ একজন মানুষ শারীরিকভাবে যতই সুস্থ থাকুক না কেন, মানসিকভাবে দুর্বল থাকলে জীবনের গতি ব্যাহত হয়। দীর্ঘস্থায়ী রোগ ঘিরে ধরে। মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমেই স্বাস্থ্যকর জীবন সম্ভব হয়। আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এই দিবসটি ১৯৯২ সালে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ চালু করে। এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ১৫০টি দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। এই বছর “দুর্যোগ ও জরুরি অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা” থিমে পালন করা হচ্ছে। যুদ্ধ, বন্যা, মহামারীর মতো পরিস্থিতিতে মানসিক সেবা সহজলভ্য করা এর মূল লক্ষ্য। সভা, কর্মসূচি, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সমাজকে সচেতন করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শারীরিক সহ মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য দৃঢ় থাকাই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য। মানুষ তার চিন্তাভাবনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, সমস্যার সাহসের সাথে মোকাবিলা করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই তা সম্ভব। WHO-এর সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়নের বেশি মানুষ মানসিক রোগে ভুগছেন। ভারতে প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মদ্যপান, মাদকাসক্তির মতো বিষয়গুলো মানসিক অসুস্থতার প্রধান কারণ।

দুর্যোগ মানসিক স্বাস্থ্যকে আরও প্রভাবিত করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, মহামারী শত শত প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। কোভিড মহামারী মানসিক রোগ কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। লকডাউন, আর্থিক সমস্যা, একাকীত্বের মতো বিষয়গুলো মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে মানুষ তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। ভারতে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল, কেরলে মেঘ বিস্ফোরণ, বন্যা প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতির সাথে মানসিক যন্ত্রণা এনেছে। যুবকদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি, বিষণ্নতা, জুয়ার সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার জন্য মানসিক চিকিৎসক মাত্র ২০ হাজার জন রয়েছে। স্বাস্থ্য বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ এক শতাংশেরও কম। ইকোনমিক সার্ভে ২০২৪-২৫ অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে। মানসিক সেবা অনেকের কাছে সহজলভ্য না হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগে মানসিক সহায়তা না থাকলে রোগ আরও বৃদ্ধি পায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভারত সরকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে জেলা মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি ৭৬৭টি জেলায় কাউন্সেলিং, বহির্বিভাগ সেবা প্রদান করছে। তেমনি টেলি-মানস ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারতে মানসিক সেবা একীভূত করে চিকিৎসা ঘাটতি পূরণের জন্য নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারগুলো DMHP শক্তিশালী করে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রতিদিন ধ্যান, যোগ, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস করা উচিত। হাঁটা, জগিং, নাচের মতো শারীরিক ব্যায়াম মনকে শক্তিশালী করে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নেওয়া, অনুভূতি শেয়ার করা, ছুটি উপভোগ করা ভালো। শখ চর্চা করা, মনোবিদের সাহায্য নেওয়া সাহসী পদক্ষেপ। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আমাদের মনকে শক্তিশালী করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দুর্যোগেও মানসিক সেবা সহজলভ্য রেখে ছোট ছোট পরিবর্তনে আনন্দময় জীবন অর্জন করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *