কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলীর ১৩টি জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান

পুর নিয়োগ দুর্নীতি ও ব্যাংক প্রতারণা মামলায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা

কলকাতা, ১০ অক্টোবর, ২০২৫:
পুর নিয়োগ দুর্নীতি এবং বহু-কোটি টাকার ব্যাংক প্রতারণা মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। সকাল থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ১৩টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিক হানার জায়গা

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার সকাল থেকে সল্টলেক, নাগেরবাজার, কাঁকুড়গাছি এবং লেকটাউন-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়।
সবচেয়ে নজরকাড়া অভিযান চলছে সল্টলেকের বিসি ব্লকে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসে। একইসঙ্গে, মন্ত্রীর মালিকানাধীন বলে জানা গিয়েছে ভিআইপি রোডের একটি রেস্তোরাঁতেও হানা দিয়েছে ইডি আধিকারিকরা।

ইডির আলাদা একটি দল পৌঁছেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের দপ্তর বাসভবনে। পাশাপাশি নাগেরবাজারের এক অডিটরের বাড়িতেও চলছে তল্লাশি।
সূত্রের খবর, এই অডিটরের নাম পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত বলে উঠে এসেছে তদন্তে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা নিয়েই ফের নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

বারোশো কোটি টাকার ব্যাংক প্রতারণা কাণ্ডেও একযোগে অভিযান

এছাড়া, প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতি মামলাতেও ইডি বৃহস্পতিবার কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্রের খবর, এই মামলায় ইডির নজরে রয়েছে শহরের এক নামী জুয়েলারি সংস্থা, যারা একাধিক ব্যাংক থেকে ভুয়ো লেনদেন ও ফলস ডকুমেন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঋণ তুলেছিল বলে অভিযোগ।

তল্লাশি চলছে গিরিশ পার্ক এলাকায় বিশাল পাতোদিয়া নামে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে, যিনি অভিযুক্ত সংস্থার ফিনান্স অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া শরৎ বোস রোড নিউ আলিপুরের আরও দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিস বাসভবনেও হানা দিয়েছে ইডি।

প্রাথমিকভাবে ইডি মনে করছে, এই সমস্ত অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটররা নকল নথি তৈরি করে ব্যাংক প্রতারণার প্রক্রিয়াকে সহজ করতেন।


কেন্দ্রীয় সংস্থা বর্তমানে পুর নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং ব্যাংক প্রতারণা কাণ্ডের মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখছে। ইডির এই অভিযান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শাসক দলের একাংশের দাবি, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছে, “দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না, আইন নিজের মতো কাজ করছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *