পাটনা, ৯ অক্টোবর, ২০২৫: আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আজ রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর নেতা তেজস্বী যাদব পাটনায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিহারের রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, মহাগঠবন্ধন সরকার ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে, যাদের পরিবারে বর্তমানে কোনো সরকারি চাকরি নেই।
তেজস্বীর এই প্রতিশ্রুতি ঘিরে ইতিমধ্যেই বিহারের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০ দিনের মধ্যেই এই বিষয়ে একটি বিশেষ কর্মসংস্থান আইন পাশ করা হবে। আর সেই আইনের আওতায় ২০ মাসের মধ্যে প্রতিটি পরিবারে একজন সদস্যের সরকারি চাকরি নিশ্চিত করা হবে।
আরজেডি নেতার বক্তব্য, “আমাদের সরকারে ‘নওকরি কা নবজাগরণ’ হবে। মহাগঠবন্ধন শুধু সামাজিক ন্যায় নয়, অর্থনৈতিক ন্যায়ও প্রতিষ্ঠা করবে।”
নীতীশ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ ও ‘নকল’-এর অভিযোগ
তেজস্বী যাদব ২০ বছরের পুরনো নীতীশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নীতীশ সরকারের ইচ্ছাশক্তির অভাব ছিল, যে কারণে বিহারে গত ২০ বছর ধরে বেকার সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে তাদের দলের ঘোষিত পরিকল্পনার নকল করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, নীতীশ সরকার ভোটের ঠিক আগে যে পেনশন, ভাতা বৃদ্ধি এবং মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পের ঘোষণা করেছে, সবই ‘নকল’। তেজস্বী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, “আমরা বিজ্ঞানসম্মতভাবে সমীক্ষা করেছি এবং প্রতিশ্রুতির কথা যখন দিয়েছি, তখন কথা দিচ্ছি… এটা জুমলাবাজি নয়। আমরা কাউকে ঠকাব না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, যুব ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই এই বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন। কারণ, রাজ্যের বেকারত্বের হার এখনও দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
ইতিমধ্যেই নীতীশ কুমারের জেডিইউ সরকারও যুবসমাজের ভোটব্যাঙ্ক টানতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে — যেমন বেকার ভাতা প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধি, মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং বিনামূল্যে বিদ্যুৎ স্কিম।
নির্বাচন কমিশন বিহারে দুই দফায় (৬ এবং ১১ নভেম্বর) বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। এই নির্বাচনে মূলত আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন বনাম বিজেপি-জেডিইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
তেজস্বী যাদবের এই ‘জব গ্যারান্টি’-কে যুব সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের দিকে টানার প্রধান কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে নীতীশ কুমার সরকারও বেকার ভাতার পরিধি বৃদ্ধি করেছেন।
তেজস্বী যাদব এর আগে জেডিইউ-এর সঙ্গে জোট সরকারের ১৭ মাসে ৫ লক্ষ চাকরি দেওয়ার দাবি করেছিলেন। এবার তিনি আরও বড় প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামলেন।
তেজস্বী যাদবের এই “জব গ্যারান্টি” প্রতিশ্রুতি নিঃসন্দেহে এবারের বিহার নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ফলাফলে এই প্রতিশ্রুতি কতটা প্রভাব ফেলে।