নিউজ ফ্রন্ট, বিলাসপুর, হিমাচল প্রদেশ
হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর জেলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো ১৬ জন যাত্রীর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ ভূমিধসের ফলে একটি যাত্রীবাহী বাস মাটির তলায় চাপা পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে জেলার ভালুঘাট এলাকার কাছে, বার্থিন অঞ্চলে। দুর্ঘটনার সময় বাসটি মারোটান থেকে ঘুমারউইন যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
বাসটিতে মোট ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে দুই শিশু অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়। উদ্ধারকাজ চলে সারারাত ধরে। স্থানীয় প্রশাসন, এনডিআরএফ, দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। বুধবার ভোরে সমস্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন — নক্ষ, আরাভ, সঞ্জীব, বিমলা, কমলেশ, কান্তা দেবী, অঞ্জনা, বক্শি রাম, নরেন্দ্র শর্মা, কৃষ্ণ লাল, চুনি লাল, রাজনিশ, সোনু, শরিফ খান ও প্রভীণ কুমার।
উদ্ধার হওয়া দুই ভাইবোন, আরুষি ও শৌর্য, বর্তমানে এআইআইএমএস বিলাসপুরে চিকিৎসাধীন।


দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুক্কু ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেন ও শোকপ্রকাশ করেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন — প্রত্যেক পরিবারের জন্য ₹৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আহতদেরও চিকিৎসার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রকৃতির নির্মমতার ফল। কিন্তু যদি কোনো গাফিলতি পাওয়া যায়, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “রাজ্যে লাগাতার বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে ইতিমধ্যেই ৭,০০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে, তবু কেন্দ্র থেকে চাওয়া ১,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা এখনো পাওয়া যায়নি।”
উপমুখ্যমন্ত্রী মুকেশ অগ্নিহোত্রী কুল্লু দশেরা অনুষ্ঠানের মাঝপথে বিলাসপুরে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন এবং মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জে.পি. নাড্ডা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে — সকলে এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ₹২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ₹৫০,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার রাজনৈতিক দিক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুক্কু বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন — “এটা রাজনীতি করার সময় নয়, এটা মানবিকতার পরীক্ষা।”
প্রবল বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল পাহাড়ি রাজ্যের দুর্বল অবকাঠামো ও প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য শক্তির কথা। প্রশাসন উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে, তবে দুর্ঘটনার পর বিলাসপুরে এখনো গভীর শোক ও আতঙ্ক ছায়া ফেলেছে।