নিউজ ফ্রন্ট | ৬ অক্টোবর, ২০২৫
উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে “তৃণমূলের জঙ্গলরাজ”-এর প্রতিচ্ছবি বলে দাবি করেছে।
অমিত মালব্যের বিস্ফোরক অভিযোগ: “বাংলা এখন সন্ত্রাসের রাজ্যে পরিণত”
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (Twitter)-এ লিখেছেন —
“উত্তর মালদহের দুইবারের সাংসদ এবং একজন সম্মানিত আদিবাসী নেতা খগেন মুর্মু তৃণমূলের গুন্ডাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন।
বাংলায় এখন এমন এক জঙ্গলরাজ চলছে যেখানে সহানুভূতির শাস্তি দেওয়া হয়, আর নিষ্ঠুরতাই পুরস্কৃত হয়।”
তিনি আরও লেখেন,
“ত্রাণ নিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের উপর হামলা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে, তৃণমূল কংগ্রেস জনগণের সেবাকে ভয় পায়।”
অমিত মালব্যের পোস্টে স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যের প্রশাসন “সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট” এবং “বিজেপি নেতাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।”
“বাংলায় গণতন্ত্র মৃত”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন — “আমাদের সাংসদ, বিধায়ক এবং রাজ্য নেতাদের উপর যে হামলা হয়েছে, তা প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বলে কিছু অবশিষ্ট নেই।”
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন — “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সম্পূর্ণ ভীত ও আতঙ্কিত। তাই বিজেপি নেতাদের জনসেবামূলক কাজকে রোখার জন্য তাঁর দলের গুন্ডাদের নামানো হয়েছে।”
প্রদীপ ভান্ডারী, বিজেপি মুখপাত্র, আরও বলেন — “তৃণমূল কংগ্রেস এখন বাংলার রাজনীতি নয়, গ্যাং রাজনীতি চালাচ্ছে। নাগরিকরা ভয় এবং সন্ত্রাসের মধ্যে বাঁচছেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব যেখানে প্রশাসনের ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরছে, সেখানে তৃণমূল অভিযোগ করছে— বিজেপি নেতারা ‘রাজনৈতিক প্রদর্শনীর’ মাধ্যমে দুর্যোগকে পুঁজি করার চেষ্টা করছেন।
উত্তরবঙ্গে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে।