নিউজ ফ্রন্ট | নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এক নজিরবিহীন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুনানির সময় এক আইনজীবী চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়া (CJI) বিচারপতি বি.আর. গাভাই-এর দিকে জুতো ছোড়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ঘটতেই আদালতের নিরাপত্তা কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে হামলাকারী আইনজীবীকে আটক করেন এবং দ্রুত আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বেঞ্চে মামলা উল্লেখের প্রক্রিয়া চলছিল। সেই সময়ই এক আইনজীবী হঠাৎ এগিয়ে এসে তাঁর জুতো খুলে বিচারপতির দিকে নিক্ষেপ করার চেষ্টা করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা মুহূর্তের মধ্যেই হস্তক্ষেপ করে হামলা প্রতিহত করেন। আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আটক ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন —
“সনাতন কা অপমান নাহি সহেঙ্গে” (সনাতন ধর্মের অপমান বরদাস্ত করা হবে না)।
ঘটনার পরও চিফ জাস্টিস গাভাই সম্পূর্ণ শান্ত থেকে আদালতের কার্যক্রম চালিয়ে যান। তিনি উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন,
“এগুলোতে মনোযোগ দেবেন না। আমি বিভ্রান্ত হই না। এসব ঘটনা আমার উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।”
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা শাখা ইতিমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম রাকেশ কিশোর (৭১)। তিনি খাজুরাহো মন্দির সংক্রান্ত এক মামলার পূর্ববর্তী মন্তব্যে অসন্তুষ্ট হয়ে এই পদক্ষেপ নেন বলে প্রাথমিক অনুমান।
আটকের পর আদালতের অনুরোধে রাকেশ কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) তাঁর আইন পেশার লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
BCI জানিয়েছে — “এটি আদালতের মর্যাদার পরিপন্থী এবং আইনজীবী হিসেবে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন —
“সুপ্রিম কোর্টে আজকের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এমন একটি কাজ প্রতিটি ভারতীয়ের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমি বিচারপতি গাভাই-এর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁর যে স্থিরতা ও ধৈর্য তিনি দেখিয়েছেন, তা আমাদের সংবিধানের চেতনা ও ন্যায়বোধের প্রতি তাঁর অটল প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে।”
রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন —
“চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়ার উপর আক্রমণ দেশের বিচারব্যবস্থার মর্যাদা এবং সংবিধানের আত্মার উপর সরাসরি আঘাত। এমন ঘৃণা কোনো সভ্য সমাজে স্থান পেতে পারে না।”
মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সভাপতি, বলেন —
“এটি নজিরবিহীন, লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য। বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর এক চেষ্টা। বিচারপতি গাভাই, যিনি নিজের মেধা ও সততার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পদে পৌঁছেছেন, তাঁর প্রতি এই আক্রমণ আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণা ও ধর্মান্ধতার প্রতিফলন।”
বন্যা বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ থেকে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন —
“আমি চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়া বিচারপতি বি.আর. গাভাই-এর উপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি শুধু একজন ব্যক্তির উপর আঘাত নয়, ভারতের সংবিধানের উপর আঘাত।
আমি বিচারপতি গাভাইকে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাই এবং উত্তরবঙ্গ থেকে তাঁর প্রতি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাচ্ছি। জয় হিন্দ।”
ভারতের বিচারব্যবস্থার অন্যতম সর্বোচ্চ আসনে বসে থাকা ব্যক্তির উপর এ ধরনের আক্রমণের চেষ্টা দেশের আইনি কাঠামো ও সংবিধানিক মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক।
যদিও বিচারপতি গাভাই-এর স্থিরতা ও সংযম সমগ্র বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি নতুন আস্থা জাগিয়েছে, তবুও ঘটনাটি সমাজে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার নতুন সংকেত দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।