উত্তরবঙ্গ ও সিকিম, ৫ অক্টোবর ২০২৫ —
টানা প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের স্বাভাবিক জনজীবন। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় একের পর এক ধস, সেতু ভেঙে যাওয়া, ও নদী উপচে পড়ার ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ অন্তত একজন, আহত চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে দার্জিলিং জেলায়, যেখানে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে মিরিকে ১৩ জন, সুখিয়াপোখরিতে ৬ জন এবং বিজনবাড়িতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পাহাড়জুড়ে ধস, নদী উপচে পড়েছে সড়কে
অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জায়গায় তিস্তা নদীর জল জাতীয় সড়কের ওপর উঠে এসেছে, যার ফলে শিলিগুড়ি ও সিকিমের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। মিরিকের দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়েছে, ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
অন্যদিকে, একাধিক জায়গায় বাড়িঘর, দোকান, স্কুল ভবন ও চাষের জমি জল ও কাদায় ডুবে গেছে। বহু গবাদি পশু ভেসে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি পাহাড়ি ব্লকে।
মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি পদক্ষেপ ও উত্তরবঙ্গ সফর
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আজ সকালে নবান্নে পাঁচটি জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আগামীকাল বিকেল তিনটায় শিলিগুড়িতে পৌঁছাবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করবেন। শিলিগুড়িতে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, ত্রাণ দফতর ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এরই মধ্যে নবান্ন থেকে রওনা দিয়েছে একটি বিশেষ প্রশাসনিক দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব। দলে রয়েছেন কৃষি, জনস্বাস্থ্য, ও কারিগরি দফতরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গত এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করবেন।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
নিচু এলাকা ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে NDRF ও SDRF দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দার্জিলিং-এ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন—
“উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিজনিত ধসে যে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে, তাতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। দুর্গতদের সহায়তায় কেন্দ্র সরকার রাজ্যের পাশে থাকবে।”
এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সাহায্য দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।