নিউজ ফ্রন্ট | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করে নবমবারের মতো এশিয়া কাপ জয়ের স্বাদ পেল টিম ইন্ডিয়া। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ধারাবাহিকতা বজায় রাখল ভারত।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান ৯ ওভারে ৮৪ রানের জুটি গড়ে ভারতকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায় ভারতীয় বোলিং। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ পর্যন্ত থামে ১৪৬ রানে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভয়ঙ্কর হয় ভারতের। চতুর্থ ওভারের মধ্যেই ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারতীয় ব্যাটিং। তখন ভরসা হয়ে ওঠেন শুভমান গিল ও তিলক বর্মা। যদিও গিল দ্রুত ফিরলেও সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে তিলকের ৫৭ রানের জুটি ম্যাচে ফেরায় ভারতকে।
শেষ দিকে শিবম দুবের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে খেলা জমিয়ে তোলেন তিলক। চাপে না পড়ে তিনি অপরাজিত ৬৯ রান (৫৩ বলে) করে দলকে শেষ দুই বল বাকি থাকতে জেতান। ভারতের এই জয়ে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তিলকের ম্যাচ-উইনিং ইনিংসের।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ
ম্যাচ শেষে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও ভারতীয় দল ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ট্রফি সরিয়ে নেওয়া হয় মাঠ থেকে, ফলে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ছবি হয়নি।টিম ইন্ডিয়া কাপ ছাড়াই বিজয় উল্লাস করল এদিন।
প্রেস কনফারেন্সে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, “একজন ক্রিকেটার হিসেবে এই রকম পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। তবে আমাদের দলের জয়ের কৃতিত্ব অটুট থাকবে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, এশিয়া কাপের সম্পূর্ণ ম্যাচ ফি তিনি দান করবেন ভারতীয় সেনার তহবিলে।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অভিনন্দন জানিয়েছেন টিম ইন্ডিয়াকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “এশিয়া কাপ জয়ের জন্য ভারতীয় দলকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভবিষ্যতেও এই গৌরব ধরে রাখুক ভারত।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফাইনাল ম্যাচকে তুলনা করেন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সঙ্গে। তাঁর বক্তব্য— “খেলার মাঠে অপারেশন সিঁদুর। ফলাফলও একই— ভারত জয়ী! আমাদের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন।”
ভারতের এই নবম এশিয়া কাপ জয় শুধু পরিসংখ্যানের নয়, ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগেরও জয়। ভারতীয় সমর্থকরা দুবাই স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে দেন গ্যালারি। ২০২৭ সালে আবার এশিয়া কাপ ফিরবে, এবারে ওয়ানডে ফরম্যাটে, বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে।